জিরো পয়েন্ট নিউজ – নিজস্ব সংবাদ, জামালপুর, ২০ মার্চ ২০২৫ :
মঙ্গলবার জামালপুর ২ নং পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বাল্য বিবাহ নিয়ে সচেতনতা শিবির করা হলো। পঞ্চায়েত অফিসের মিটিং রুমে করা হয় এই অনুষ্ঠান। ২ নং পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জামালপুর গার্লস হাই স্কুল, কালনা কাঁসরা হাই স্কুল সহ এলাকার ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী মেয়েরা এই অনুষ্ঠানে যোগদান করে। মূলত ১৮ বছরের আগেবিবাহ করা কেনো উচিত নয়, কী কী ক্ষতি হতে পারে সেই বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়।
উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক, পূর্ত কর্মাধক্ষ্য মেহেমুদ খান, জয়েন্ট বিডিও, সি ডি পি ও জামালপুর গার্লস হাই স্কুলের দুই শিক্ষিকা জেলা বি ও আই সি চাইল্ড প্রটেকশন ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়, প্রধান মিঠু পাল সহ অন্যান্যরা।
পূর্ত কর্মাধক্ষ্য মেহেমুদ খান বলেন বাল্য বিবাহ কমাতে এই ধরনের আলোচনা সভা যথেষ্ট কার্যকরী হবে। এই মর্মে আমাদের শপথ নিতে হবে কোনো মতেই ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিবাহ আমরা কেউ দেবোনা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেয়েদের শিক্ষার জন্য কতরকমের স্কলারশিপ, কন্যাশ্রী প্রকল্পের ব্যবস্থা করেছেন, সেই সুযোগ সকলেরই নেওয়া উচিত।
প্রধান মিঠু পাল বলেন যাতে তাঁর পঞ্চায়েতে বাল্য বিবাহ কোনমতেই না হয় সেই জন্য তাঁরা এই আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন। তিনি আশাবাদী উপস্থিত মেয়েরা তাঁদের কন্যারত্নরা নিশ্চই ব্যাপারটা বুঝতে পারবে।
এছাড়াও বুধবার বাল্য বিবাহ, অল্প বয়সে মাতৃত্ব ও স্কুল ছুট ছাত্রী এই বিষয়কে সামনে রেখে জামালপুর ও জামালপুর পূর্ব চক্র দুই চক্রের উদ্যোগে ও ব্লক প্রশাসনের সাহায্যে জামালপুর ব্লক অফিসে পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী মঞ্চে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ব্লকের প্রতিটি উচ্চ প্রাথমিক , মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কন্যাশ্রী নোডাল টিচার ও একজন করে কন্যাশ্রী ক্লাবের সদস্যরা আজকের এই আলোচনা সভায় অংশ নেয়।
প্রসঙ্গত জেলা শাসক প্রতিটি ব্লকের বিডিও ও অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের এই বাল্য বিবাহ বিষয়ে নজরদারির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী অন্যান্য ব্লকের সাথে জামালপুর ব্লকে ব্লক প্রশাসন ও দুই চক্রসম্পদ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, সহ সভাপতি ভূতনাথ মালিক,বিডিও পার্থ সারথী দে,পূর্ত কর্মাধক্ষ্য মেহেমুদ খাঁন,জামালপুর থানার সেকেন্ড অফিসার,সিডিপিও সুশোভন রায়, দুই এস আই রাজেন্দ্র প্রসাদ মাজি ও অনিন্দিতা সাহা,ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের পক্ষ থেকে ডা চন্দন ঘোষ, জামালপুর হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমার নায়েক, শিপতাই মুহুলা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কুন্তল চট্টোপাধ্যায়, বনবিবিতলা হাই স্কুলের শিক্ষক পীযূষ দাস সহ অন্যান্যরা।
বিডিও পার্থ সারথী দে বলেন যেখানে রাজ্য সরকার মেয়েদের জন্য এত সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন তারপরও এই ১৮ বছরের আগে মেয়ে দের বিয়ে হয়ে যাওয়া অত্যন্ত লজ্জার। তিনি কন্যাশ্রী নোডাল টিচারদের উদ্দেশ্যে বলেন প্রতিটি স্কুলে কন্যাশ্রী ক্লাবকে সচল রাখতে হবে। প্রয়োজনে নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর মেয়েদের নিয়ে আলাদা করে বসতে হবে। গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে প্রচার করতে হবে। কোনো মতেই ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে না এই মর্মে অভিভাবকদেরও বোঝাতে হবে। স্কুলে গার্জেন মিটিং, মায়েদের নিয়ে মিটিং করে বাস্তব অবস্থা তুলে ধরতে হবে। কারণ দিনের অনেকতা সময় ছাত্রীরা স্কুলেই থাকে।
কন্যাশ্রী ক্লাবের মেয়েদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন কোথাও যদি তারা খবর পায় তাদের বয়সী কোনো সাথীর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তারা যেনো সাথে সাথেই বিদ্যালয়ে কন্যাশ্রী নোডাল টিচারকে জানায়। তিনি ছাত্রীদের বলেন তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে বাল্য বিবাহ রোধে।
এদিন আলোচক মেহেমুদ খান বলেন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে একদম অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়া মানা যায় না। সরকার কন্যাশ্রী, শিক্ষশ্রী, ঐক্যশ্রী, সবুজ সাথী সহ নানা প্রকল্প চালু করেছেন যাতে মেয়েরা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত পড়াশুনা করে। উচ্চ মাধ্যমিকের পর তাদের ১৮ বছর বয়স হলে তবেই বিয়ে করা উচিত। তিনি স্কুলের কন্যাশ্রী নোডাল টিচারদের এই বিষয়ে আরো সচেতন হওয়ার কথা বলেন। কন্যাশ্রী ক্লাব সচল থাকলে বাল্য বিবাহ অনেকটাই রোধ করা যাবে।
জামালপুর পূর্ব চক্রের এস আই রাজেন্দ্র প্রসাদ মাজি বলেন যে কোনো মূল্যে আমাদের এই বাল্য বিবাহ আটকাতেই হবে। আর এবিষয়ে স্কুল গুলোকে যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা নিতে হবে। কন্যাশ্রী ক্লাব গুলো সচল থাকলে অবশ্যই এটা আটকানো যাবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি স্কুল গুলির উদ্যেশ্যে আরো বলেন যে সমস্ত ছেলে মেয়েরা দীর্ঘ দিন অনুপস্থিত থাকছে তাদেরকে দ্রুত স্কুলে নিয়ে এসে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে স্কুল গুলিকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।











