17/04/2026 : 4:30 AM
অন্যান্য

লকডাউনে অচেনা মুখঃ মঙ্গলকোটে ময়নার জীবন সংগ্রাম

পরাগ জ্যোতি ঘোষ, মঙ্গলকোটঃ ময়না মাঝি মঙ্গলকোটের জাল পাড়ার বাসিন্দা। দু চোখে দেখতে পায় না। ভিক্ষালব্ধ আয়ে দিনগুজরান তার। কিন্তু ময়নার কন্ঠে জাদু আছে। যখন একতারার সুর এর তার সুর মেলে মানুষ মোহিত হয়ে পড়ে তার বোলবোলার তালে। সকাল থেকে সন্ধা কাজের মধ্যে কাটে তার। তারই ফাঁকে সুর সাধনা। সকালবেলায় স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করে।পরিবর্তে দোকানদারের কাছ থেকে দিন রাতের খাবার টুকু পায় সে। ময়নার সাধারণ জ্ঞানের ভান্ডার দেখলে অবাক হতে হয়। আমাজনের জঙ্গল থেকে হিমালয়ের পাদদেশে মানুষগুলোর এখন কেমন চলছে ইত্যাদি নানা প্রশ্নে সে নাকাল করে তোলে শিক্ষিত মানুষজনদের। তারপর নিজেই উত্তর দেয় তার বিজ্ঞানমনস্ক মানসিকতায়। আসলে রোজ রেডিও তে নানারকম গান বাজনা সংবাদ তাকে মোহিত করে তোলে। সকলেই ভালোবাসে ময়নাকে। মাঝেমাঝেই ময়নাকে খুশি হয়ে যা দেয় তাই নেয়। খোল করতাল ঢোল সমস্ত বাজনায় পারদর্শী ময়না ছোটবেলায় দুটো কাগজকে নিয়ে এমন বোল তুলতো মানুষ অবাক হয়ে শুনতো তার সেই বাজনা কে।

কিন্তু ময়নার একটাই দুঃখ হচ্ছে শরীরের ক্ষমতাও কমে যাবে তখন কে দেখবে তাকে। যদি সরকার থেকে একটা পাকাপাকি ব্যবস্থা হতো তাহলে সে দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারত। ময়নার মেঠো সুরে মঙ্গলকোটের আকাশ বাতাস ধ্বনিত হয় গুরু না ভজিলে সন্ধ্যা সকালে । তাই ময়নার অনুরাগীরা চান জাল পাড়ার ময়নার যেন একটা পাকাপাকি মাসোহারার ব্যবস্থা সরকার থেকে করা হয়।


আপনার এলাকার অচেনা প্রতিভাবানদের খবর পাঠান জিরো পয়েন্ট-এ, আমরা বিশ্ববাসীর সামনে তার প্রতিভাকে প্রকাশ করার চেষ্টা করব।

Related posts

লকডাউনে ব্যপক নজরদারি মঙ্গলকোট পুলিশের

E Zero Point

বিধায়কের উপস্থিতিতে আউশগ্রামে খাদ্য সামগ্রীর দান

E Zero Point

গুজরাতের সুরাতে বস্তির মুস্কান স্কুলের বাচ্চা ও অভিভাবকদের প্রতিদিন খাবার দেওয়া হবে

E Zero Point

মতামত দিন