আলেক শেখ, কালনা, ২৫ জুলাইঃ
করোনা ভাইরাসের দাপটে একটার পর একটা মেলা উৎসব বন্ধ। বাংলা বছরের শ্রাবণ মাস পড়তেই মন্দিরময় কালনা শহরে যে পর্যটকদের ঢল নামে, এবার সেটাও উধাও। একটা পর্যটকেরও দেখা নেই। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কালনা শহরে রয়েছে– চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবৎকালের মন্দির। গৌরীদাস ও নিমাইয়ের মিলনস্থল বলে চিহ্নিত তেঁতুলতলা। বর্ধমানের রাজা চিত্রসেন রায় কর্তৃক ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে কালনায় নির্মিত সিদ্ধেশ্বরী মন্দির। ১৭৫২ থেকে ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে মধ্যে মহারাজ তিলকচাঁদের রাজত্বকালে নির্মিত হয়–অনন্ত বাসুদেব মন্দির, কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির, জগন্নাথ বাড়ির পশ্চিমে জোড়া শিবমন্দির। এই রাজারই রাজত্বকালে কালনায় ১৭৬৪ সালে নির্মিত হয় লালজি মন্দির। এই রকম ২৫ চূড়া রত্নমন্দির ভারতবর্ষে আর কোথাও নেই। এই মন্দিরগুলো ছাড়াও ১৮০৯ সালে ১০৮ শিব মন্দির এবং ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় প্রতাপেশ্বর মন্দির। এই রকম ১০৮ শিব মন্দির বর্ধমানের নবাবহাটেও আছে, তবে তার আকৃতি কালনা শহরের মতো গোলাকার নয়। সেটার আকৃতি আয়তকার। এছাড়াও বহু পুরাকৃত্তি রয়েছে কালনা শহর ও তার আশপাশে। সেই পুরাকীর্তি দেখার টানে ও শিবের মাথায় জল দিতে বহু পর্যটক ও ভক্ত প্রতি বাংলা বছরের শ্রাবণ মাসের প্রথম থেকে কালনা শহরে আসতে শুরু করেন। চলে শ্রাবণ মাস ধরে তাঁদের আনাগোনা। এদের আনাগোনা উপরেই এই শহরের ব্যবসায়ীদের রোজগার হয়। কিন্তু এবার এখনো পর্যন্ত কোন পর্যটকের দেখা না মেলায় সংকটে পড়েছেন তাঁরা। এই ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন–হোটেল, লজ, ফুলওয়ালা, অটো, টোটো, বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিক্রেতা।
