29/09/2022 : 4:11 AM
BREAKING NEWS
অন্যান্য

করোনা সঙ্কটে মেমারির গর্ব টিম আঁচল

বিশেষ প্রতিবেদনঃ ৩৬৫ দিনই আঁচল মেমারির দু -চার জন পথ বাসী কে খাবার দেয় । এই খাবার দিতে গিয়েই গত ২২মার্চ আঁচলের কিছু সদস্য দেখতে পায় বেশ কিছু মানুষ অভুক্ত , কারন বর্তমানে করোনা মোকাবিলায় লকডাউন পরিস্থিতি । এরপর মেমারি শহরের স্বনামধন্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আঁচল সিদ্ধাণ্ত নেয় , যতদিন না পরিস্থিতি ঠিক হয় , তারা এই সকল মানুষের মুখে খাবার তুলে দেবে । এই পরিকল্পনা অনুসারে , আঁচল খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করতে থাকে এবং সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া পায় । শুধু মেমারি শহরের মানুষের থেকেই না , কলকাতা , ব্যান্ডেল , চিনসুরা , বর্ধমান , এমনকি সুদূর জার্মানি থেকে মানুষ আমাদের সাহায্য করেছেন কেউ অর্থ দিয়ে , কেউ বা সামগ্রী দিয়ে ।

টিম আঁচলের এক সদস্য জানায় যে, প্রথম ১৫জন দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে প্রায় ৫৭জন কে খাবার দিয়ে চলেছে টিম আঁচল । শুধু তাই নয় , এই মানুষ গুলো যাতে পুষ্টি সম্মত খাবার পায় , সেটা মাথায় রেখে ,সব্জী তরকারির সঙ্গে কোন দিন রুটি , কোনদিন ভাত , কোনদিন খিচুড়ী ও সঙ্গে সাধ্য মতো ডিম , দুধ ও মিষ্টি ও দেয়া হচ্ছে । আর এই কঠিন পরিস্থিতিতে , কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে , টিম আঁচলের প্রত্যেকটি সদস্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করে চলেছে । শুধু তাই নয় , আজ মানুষ গৃহবন্দী তাই পথের অবলা প্রাণী গুলো অভুক্ত । এই ভাবনা থেকেই , মেমারীর রাস্তার সমস্ত কুকুর ও অন্যান্য প্রাণী দের, নিয়ম করে দুবেলা রুটি ও বিস্কুট দিয়ে থাকে টিম আঁচল ।

গত ৩০ মার্চ এক অদ্ভুত ঘটনার সম্মূখীন হল টিম আঁচল । টিম আঁচল রোজ ১৫ জন কে খাবার দেয় । কিন্তুু সেই খাবার স্টেশনই শেষ হয়ে যায়। এর পরও আরও কিছু মানুষের কাতর প্রার্থনা , তাদের ও খাবার দিতে হবে । আর সংখ্যা টা প্রায় ২০জন । সময় টা রাত ৮ টা । এর পরও টিম আঁচল, নব্যেন্দু বাবুর সযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করে এদের খাবার দেয় । আজ খাদ্য তালিকায় ছিলো :  ৪টে রুটি , কুমড়োর ছক্কা আর দুধ । সেই দিনই রাত  ৯:৩০, ফোন আসে মেমারি থানা টাউন অফিসার শান্তনু রায় চৌধুরীর, জানতে চান , ২০জন অসুস্থ মানুষ আছেন , ” আঁচল ” কি ওদের খাবার দিতে পারবে ? করোনা তে অনাহারী মানুষের মুখে খাবার তুলে দেবে টিম আঁচল ….এই পণ করেছে । কোনো তোয়াক্কা না করে, টিমের শর্মিস্ঠা নায়েকের তদারকি তে , টিম আঁচলের বুবাই , শুভাশিস আর মুস্কান আহমেদ …এই এতো রাতে বেড়িয়ে , সমস্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে , খাবার তৈরী করে (ডিমের ঝোল আর ভাত), থানার গাড়ি তে করে গিয়ে ওদের খাবার দিয়ে এল । সকাল এই তিনজন কে আশীর্বাদ করুণ ওরা যেন জীবনে খুব বড় হয় , প্রতিষ্ঠা পায়।

টিম আঁচল -এর নর নারায়ণ সেবার এই পথ মেমারি তথা সমগ্র বিশ্ববাসীকে প্রেরণা যোগাক।

মেমারি থানার টাউন অফিসার শান্তনু রায়চৌধুরীর সাথে টিম আঁচলের দুই স্বেচ্ছাসেবক।

 

Related posts

বাগিলা গ্রাম পঞ্চায়েতে করোনা সচেতনতা অভিযান

E Zero Point

রসুলপুর ও মেমারির করোনা সৈনিকদের সম্মানিত করলো WE R RASULPURIAN

E Zero Point

পায়ে পায়ে মন্দিরের শহরের খোঁজে | অজয় কুমার দে

E Zero Point