28/11/2022 : 5:30 PM
BREAKING NEWS
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানবর্ধমান

পাঠ্যপুস্তকে বর্ণবিদ্বেষী শিক্ষা, সাসপেন্ড করা হল বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল গার্লস স্কুলের দুই শিক্ষিকা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমানঃ ইতিমধ্যে আমেরিকার কালো মানুষ জর্জ ফ্লয়েডকে সেখানকার বর্নবিদ্বেষী  পুলিশের নৃশংসভাবে  হত্যার প্রতিবাদে সেখানে উত্তাল আন্দোলন গড়ে উঠেছে |  বর্ণবৈষম্যের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন অনেকেই। তারই মধ্যে পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরে মিউনিসিপ্যাল গার্লস স্কুলে প্রাক-প্রাথমিক বিভাগে ইংরেজির রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহৃত পাঠ্যপুস্তকে ‘আগলি’ শব্দের সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গের মুখের ছবি ব্যবহারে উত্তাল হয়ে উঠেছে বর্ধমান শহর। যার উত্তাপ রাজ্যের শিক্ষ দফতরে পৌঁছে গেছে।

সংবাদ সূত্রে জানা যায়, উক্ত স্কুলের ইংরেজি বইয়ে ‘ইউ’ অক্ষরের ব্যবহার বোঝাতে লেখা হয়েছে ‘আগলি’, সেই সঙ্গে ছাপা হয়েছে এক কৃষ্ণাঙ্গের ছবি। এই ছবি ব্যবহারের নিন্দা করেছেন অনেক অভিভাবক। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা দফতরে অভিযোগ করেন কলকাতার বঙ্গবাসী (সান্ধ্য) কলেজের এক অধ্যাপক। রৌরকেল্লা এনআইটি-র এক অধ্যাপকও এ নিয়ে সরব হন।

অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ধমানের যে স্কুলে ওই বইটি পড়ানো হচ্ছে, সেটির দুই শিক্ষিকাকে সাসপেন্ড করার কথা জানালেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। গত বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা স্তম্ভিত। এই বই ব্যবহার করা যাবে না।

কেন এই রেফারেন্স বই ব্যবহার করা হল, সে জন্য শ্রাবনী মল্লিক ও বর্ণালী ঘোষকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শ্রাবনীদেবী ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। বর্ণালীদেবী প্রাক-প্রাথমিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। বর্ণালীদেবীর বক্তব্য, আমি নামেই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। পুরোটাই নজরদারি করেন শ্রাবনীদেবী। যদিও শ্রাবণীদেবীর পাল্টা দাবি, আমি স্কুলের ওই বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান। পঠনপাঠনের সঙ্গে আমার যোগ নেই। বই বাছাইও আমি করি না। তিনি জানান, ঘটনাটি কানে আসার পরেই যে দু’জন শিক্ষিকা বই বাছাই করেন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে এক জন জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল।

পূর্ব বর্ধমান জেলা স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শ্রীধর প্রামাণিক জানান, বইটি সরকারী কোনো পাঠ‍্য পুস্তক নয়। স্কুল কতৃপক্ষ নিজেদের উদ‍্যোগে রেফারেন্স বুক হিসাবে চালু করেছিলো। সেই বইয়েতেই রয়েছে বর্ণবিদ্বেষ মূলক ছবি, যা দেখিয়েই পড়ানো হচ্ছিলো শিশুদের, বলে অভিযোগ ওঠে। U ফর UGLY বোঝাতে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব‍্যক্তির মুখের ছবি দেওয়া আছে। বাংলায় লেখা রয়েছে কুৎসিৎ। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) স্বপনকুমার দত্ত বলেন, যে প্রকাশক সংস্থা এই বই প্রকাশ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও কি পদক্ষেপ নেওয়া যায় তার ভাবনাচিন্তা চলছে। এই বইটি রাজ‍্যের কোথাও যাতে পড়ানো না হয় সে বিষয়েও নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

Related posts

নন্দনে ‘তৃতীয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব’ শুরু হলো

E Zero Point

করোনা রোগীদের পাশে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক

E Zero Point

দুঃস্থ মানুষদের শীতবস্ত্র তুলে দিল ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ 

E Zero Point

মতামত দিন