সংবাদ সংস্থাঃ লাদাখে শহিদ ভারতীয় জওয়ানদের জীবন বৃথা যাবে না। অবশেষে মুখে খুলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। চিনকে কড়া বার্তা পাঠাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত শান্তি চায়। কিন্তু প্ররোচনা দিলে উপযুক্ত জবাব দিতে পারে ভারত।” তিনি জানিয়েছেন, দেশ শহিদ জওয়ানদের প্রতি গর্বিত। চিনের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁরা।”
ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান যে, “ভারত মাতার সাহসী সন্তানেরা গালভান উপত্যকায় আমাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে গিয়ে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দেশের সেবায় এই মহান ত্যাগের জন্য আমি তাঁদের প্রণাম জানাই, কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁদের শ্রদ্ধা জানাই। এই শোকের মুহুর্তে আমি এই শহীদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আজ গোটা দেশ আপনার সঙ্গে আছে, দেশের অনুভূতি আপনার সঙ্গে আছে। আমাদের শহীদদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, ভারত প্রতি ইঞ্চি জমির জন্য দেশের আত্ম-সম্মানকে দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে। ভারত সাংস্কৃতিকভাবে একটি শান্তিকামী দেশ। আমাদের ইতিহাস শান্তির ইতিহাস। ভারতের আদর্শ মন্ত্র হল – লোকা: সমাস্ত: সুখিনো ভবন্তু। আমরা প্রত্যেক যুগে গোটা পৃথিবীর শান্তির জন্য, সমগ্র মানবতার শান্তি কামনা করেছি। আমরা সবসময় আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে মিলেমিশে নিবিড়ভাবে কাজ করেছি। সর্বদা তাঁদের উন্নয়ন ও কল্যাণ কামনা করেছি। আমাদের যেখানে মতপার্থক্য হয়েছে, আমরা সর্বদা চেষ্টা করেছি যে পার্থক্যগুলি যাতে বিরোধে পরিণত না হয়, মতান্তর থেকে মনান্তর যেন বিরোধিতায় পর্যবসিত না হয়। আমরা কখনই কাউকে উস্কানি দিই না, তবে আমরা আমাদের দেশের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপসও করি না। যখনই সময় এসেছে, আমরা আমাদের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের শক্তি প্রদর্শন করে আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছি। ত্যাগ এবং তিতিক্ষা আমাদের জাতীয় চরিত্রের অঙ্গ, তবে একই সাথে বিক্রম এবং বীরত্বও আমাদের দেশের চরিত্রের সমান অংশ। আমি দেশকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের সেনাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। ভারতের অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব আমাদের জন্যে সর্বোচ্চ এবং এটির সুরক্ষা থেকে কেউ আমাদের থামাতে পারে না। এ নিয়ে কারও কোনও বিভ্রান্তি বা সন্দেহ থাকা উচিত নয়। ভারত শান্তি চায়। তবে ভারতকে উস্কে দেওয়ার জবাবে একটি পরিণামদর্শী উত্তরও দেওয়া হবে।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রস্তাবিত বৈঠক ছিল প্রধানমন্ত্রীর। সেই বৈঠকের আগে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দু’মিনিট নীরবতা পালন করা সয়। এমনটাই পিএমও সূত্রে খবর ইতিমধ্যে ১৯ জুন বিকেল পাঁচটায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী। লাদাখ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সেই বৈঠক হবে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান সেই বৈঠকে অংশ নেবেন।
