03/07/2020 : 8:38 PM
BREAKING NEWS
আমার দেশ বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

চীনা চেংদু J-20 বনাম ভারতীয় রাফালঃ একটি তুলনামূলক আলোচনা

পার্থসারথী তাপস


যদিও J-20 একটি পঞ্চম প্রজন্মের (চীনা দাবী অনুযায়ী) ভারী মূলত এয়ার সুপিরিয়রিটি ফাইটার এবং ভারতীয় রাফাল একটি 4.5++ জেনারেশনের মাঝারি ওজনের মাল্টিরোল ফাইটার এবং উভয়ের মিশন প্রোফাইল আলাদা তবু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই দুটির তুলনা অনিবার্য হয়ে পড়েছে।

আগে এই নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে যে, চেংদু জে -২০-র ইঞ্জিন দুর্বল এবং এর স্টেলথ টেকনোলজিও ততটা নির্ভরযোগ্য নয়, তবু এটা মানতেই হবে যে চাইনিজদের হাতে অন্তত একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যাকে তারা পঞ্চম প্রজন্মের বলে দাবী করতে পারে, এবং চীনারা এটির দুর্বলতাগুলো ক্রমশঃ কাটিয়ে উঠলে এটি একটি ভালো ওয়েপন প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতেই পারে।

আর একটা ব্যপার হচ্ছে, স্টেলথ প্রযুক্তি প্রত্যেক দেশের কাছেই একটি গোপন প্রযুক্তি, ফলে সেই দেশ পাবলিক ডোমেনে যেটুকু তথ্য দেয় সেটাই বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় থাকে না। তাদের দাবীর সত্যমিথ্যা যাচাই করার উপায় নেই বললেই চলে। যতক্ষণ না পঞ্চম প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত হচ্ছে ততক্ষণ সেই দাবীর সত্যমিথ্যা বোঝার উপায় নেই।

এতদিন পর্যন্ত যত স্টেলথ ফাইটার এসেছে তার মধ্যে আমেরিকার F-22 র‍্যাপ্টর যে শ্রেষ্ঠ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু ২০১৩ সালে ইউরোপে একটি যৌথ এয়ার এক্সারসাইজে ইউরোফাইটার টাইফুন F-22 র‍্যাপ্টরকে শিকার করেছিল!

J-20ও ঠিক র‍্যাপ্টরের মতোই পরীক্ষিত যুদ্ধবিমান নয়। অন্য দেশের বিরুদ্ধে কমব্যাট সিনারিওতে পরীক্ষা করা না হওয়া পর্যন্ত কেউ এর সঠিক স্পেসিফিকেশন জানতে পারবে না। J-20 সম্পর্কে আমাদের যা কিছু তথ্য রয়েছে তা হ’ল চীন-এর দাবী করা তথ্য।

রাফালে আমরা সকলেই জানি, একটি মাল্টিরোল মিডিয়াম ফাইটার যা এয়ার-টু-এয়ার ফাইট এবং গ্রাউন্ড অ্যাটাক উভয় কাজই সুন্দরভাবে করতে পারে। তদুপরি, এটি রেইকি ফাইটার হিসাবে অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে এবং কম উচ্চতায় ওড়ার বিষয়ে বিশেষ দক্ষ হওয়ার কারণে কম্ব্যাট এয়ার সাপোর্ট (সিএএস)-এ এর ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

যাইহোক, এবারে ভারতীয় রাফাল এবং চীনা চেংদু J-20 এর বৈশিষ্ট্যগুলি তুলনা করে দেখা যাক।


চেংদু জে -20:


এটি এক আসন বিশিষ্ট মাল্টিরোল স্টেলথ ফাইটার। এটি সুপারসোনিক ক্রুইজ গতি সম্পন্ন এবং ইন্টিগ্রেটেড এভিওনিক্স সহ এয়ার-টু-গ্রাউন্ড যুদ্ধে কার্যকরী। এটি আকারেও রাফালের তুলনায় আকারে বেশ বড়সড়।
প্রথমত, চেংদু জে -20-র একটি দীর্ঘ এবং প্রশস্ত ফিউসলাজ রয়েছে এবং খুব চওড়া পৃষ্ঠীয় ভাগটি কিন্তু যথেষ্ট বেশি মাত্রায় রেডার তরঙ্গ রিফ্লেক্ট করতে পারে। দ্বিতীয়ত, এর ইঞ্জিনের নজলের সামনের অংশটিও বিমানটিকে রেডারের সামনে এক্সপোজ করতে পারে। তবে চীনারা এই আশঙ্কা কম করতে নতুন একটি প্রোটোটাইপে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তৃতীয়ত, এর সামনের ক্যানার্ডগুলি জে -20-র স্টেলথিনেসকে হ্রাস করবে তা বলাই বাহুল্য।ফ্লাইট কন্ট্রোল সফ্টওয়্যারের সাহায্যে ক্যানার্ডগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণত এই ডিফ্লেকশন কম করার চেষ্টা করা হয়। তবে ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে ক্যানার্ড ডিফ্লেকশন নিয়ন্ত্রণ করে আরসিএস হ্রাস করতে চীনারা কতটা সফল হয়েছে, তাও কিন্তু পুরোপুরি অনুমানের বিষয়।

জে -20-র এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলির জন্য চারটি হার্ডপয়েন্ট সহ দুটি সাইড বে রয়েছে এবং ফিউসলাজে মিসাইল এবং অন্যান্য অস্ত্র বহনের জন্য এর অধীনে একটি বড় ইন্টারনাল বে রয়েছে। শুধু তাই নয়, এটিতে একটি অভ্যন্তরীণ কামানও রয়েছে। এটিতে ইনফ্রারেড / বৈদ্যুতিন-অপটিক অনুসন্ধান এবং ট্র্যাক সেন্সরের পাশাপাশি একটি AESA রেডারও রয়েছে। চীন দাবি করে যে জে -20 তে একটি passive electro-optical detection system রয়েছে যা পাইলটকে 360 ° কভারেজ দেয়। বাবল ক্যানপি এবং গ্লাস ককপিটযুক্ত এই ফাইটার বিমানটি চীনা সামরিক উপগ্রহ, ডিভাইন ঈগল ইউএভি এবং অ্যাওয়াক (AEW&C) সিস্টেমের সাহায্যে নেটওয়ার্কে যুক্ত এবং রিয়েল-টাইম ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারে।

জে -20 বর্তমানে রাশিয়ান AL-31 ইঞ্জিন দ্বারা চালিত, ফলে বর্তমানে জে -20-র উচ্চ ক্ষমতার ইঞ্জিনের অভাব রয়েছে। তাছাড়া এর রাডার ও অ্যাভিয়নিক্সও ততটা উন্নিত নয়।

চীনারা ইঞ্জিন তৈরির ক্ষেত্রে কিন্তু বড় সমস্যার মুখোমুখি। বহু চেষ্টা করেও চীনারা উপযুক্ত জেট ইঞ্জিন তৈরি করতে এখনও ব্যর্থ। এই অভিযোগ বহুবার উঠেছে, সাইবার ক্রাইম ও গুপ্তচরের মাধ্যমে জে -20-তে ব্যবহৃত অনেক প্রযুক্তিই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চুরি করা হয়। সুতরাং এটা মোটামুটি স্পষ্ট যে এই বিমানটি F-22 এবং F -35 এর কিছু চুরি করা প্রযুক্তি এবং কিছু চতুর্থ জেনারেশনের ঘষামাজা করা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং যদি চীন ভারতের বিরুদ্ধে জে -20 ব্যবহার করে তবে এর দুর্বলতাগুলো কিন্তু প্রকাশ্যে চলে আসবে। শুধু তাই নয়, ভারতের সু-৩০ এমকেআই এয়ার সুপিরিয়রিটি ফাইটার হিসাবে চীনা সীমান্ত পাহারা দেবে। ভারতের সু-৩০ এমকেআই যা ভারত, রাশিয়া, ইজরায়েল এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত তা চীনের যে কোনো চতুর্থ জেনারেশনের বিমানের থেকে বেশি ক্ষমতাশালী। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সু -30 এমকেআই পাইলটরা অত্যন্ত পেশাদার এবং দক্ষ। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সমস্ত এমকেআই পাইলট বিশ্বের যে কোনও দেশের তুলনায় টাফ এবং অত্যন্ত অভিজ্ঞ পাইলট। সুতরাং রাফাল এবং সু-৩০ এমকেআই এর নজরদারি এড়িয়ে জে-২০-র তথাকথিত স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে হানা দেওয়া একেবারে অসম্ভব না হলেও অত্যন্ত কঠিন কাজ।

অস্ত্রঃ জে -20 পিএল-১০, পিএল-১২ এবং পিএল-১৫ এয়ার টু এয়ার মিসাইল এবং এলএস-৬ প্রিসিশন গাইডেড বম্ব বহন করতে পারে। এর মধ্যে পিএল-১৫ এয়ার টু এয়ার মিসাইলের রেঞ্জ ৩০০ কিলোমিটার। এটি র‍্যামজেট চালিত মিসাইল বলে দাবী করা হলেও এটি র‍্যামজেট না ডুয়াল পালস মোটর দ্বারা চালিত তাই নিয়ে বিতর্ক আছে।

ভারতীয় রাফাল


ডাসাল্ট রাফাল হ’ল ফরাসী দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট, ক্যানার্ড ডেল্টা উইং-এর মাঝারি ওজনের মাল্টিরোল যুদ্ধ বিমান যা ডিজাইন করেছেন ফরাসী কোম্পানি ড্যাসাল্ট এভিয়েশন। বিস্তৃত রেঞ্জের যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম রাফাল অনেক ধরণের কাজের প্রতি লক্ষ্য রেখে ডিজাইন করা। এয়ার সুপিরিওরিটি, পর্যবেক্ষণ, ইন্টারসেপ্টর, গ্রাউন্ড সাপোর্ট, ডেপথ স্ট্রাইক, অ্যান্টি শিপ স্ট্রাইক, পরমাণু হামলা ইত্যাদি বহুরকম সিচুয়েশনে কার্যকরী বলে রাফালকে ওমনিরোল বিমান হিসাবে পরিচিত।

ডাসল্ট রাফালে একটি RBE-2AA active electronically scanned array (AESA) রাডার সিস্টেম লাগানো হয়েছে যা আগের RBE-2 রেডারটির থেকে উন্নত। এটির ডিটেকশন রেঞ্জ 200 কিলোমিটার। AESA রেডার এর বিভিন্ন মোডগুলির মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন করতে সাহায্য করে, যার ফলে বিভিন্ন অপারেশনাল ফাংশনগুলি একই সাথে চালতে সাহায্য করে। রাফালের RBE-2 রাডারটি বিশ্বের অন্যতম অত্যাধুনিক রাডার হিসাবে ব্যাপকভাবে খ্যাতি পেয়েছে।

রাফালে যুক্ত থাকা SPECTRA নামের একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট রয়েছে যা পাইলটকে অনেক দূর থেকেই বিপদকে সনাক্ত করতে এবং তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করে। এটি পাইলটকে তাত্ক্ষণিকভাবে রেডার জ্যামিং, ইনফ্রারেড সীকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন ডেকয়িং (আগুনের ফুলকি ছুঁড়ে)এর সাহায্যে এবং অত্যন্ত সুদক্ষ ম্যানুভারের সংমিশ্রণে বিমানটির সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নির্বাচন করতে দেয় । SPECTRA ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট ২০০ কিলোমিটার দূরত্বেও নিখুঁত নিশানায় প্রতিপক্ষ বিমানকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে। রাফালের অতি উন্নত সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস ব্যবস্থার জন্য SPECTRA অনেকখানি দায়ী। SPECTRA তে এখন একটি নতুন প্রজন্মের মিসাইল ওয়ার্নিং সিস্টেম বা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা বর্তমান কালের সব থেকে উন্নত মিসাইল ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও ডিটেকশনের ক্ষমতা প্রদান করে রাফালকে।

রাফালের স্টেলথ ফিচারঃ যদিও রাফাল প্রকৃত অর্থে স্টেলথ ফাইটার নয়, তা সত্বেও রাফালের রেডার ক্রস সেকশন বা আর সি এস হ্রাস করার জন্য অনেকগুলি বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যা স্টেলথ ফাইটারের ক্ষেত্রে দেখা যায়। যেমন, ইঞ্জিন ইনটেকের বিশেষ সর্পিলাকার ডিজাইন করা হয়েছে যা একে সাধারণ চতুর্থ জেনারেশনের বিমানের তুলনায় অনেক স্টেলথি করে তোলে। এছাড়াও রাফালের এয়ারফ্রেমটির 70% এরও বেশি কম্পোজিট মেটিরিয়ালে তৈরি, যা রেডার তরঙ্গ কম প্রতিফলিত করে। এছাড়াও ইঞ্জেনের এয়ার ইনটেকের ও ডানার বিভিন্ন অংশের সের‍্যাটেড (দাঁতের মতো খাঁজ কাটা) জোড়গুলিও এর আরসিএস কম করতে সাহায্য করে অর্থাৎ রেডারে ধরা কঠিন হয়ে যায়। সাধারণ অবস্থায় রাফালের আরসিএস এক বর্গমিটার বা ১ বর্গমিটার বা একটা ছোটো এইচপি প্রিন্টারের মতো হলেও হলেও SPECTRA সিস্টেম অন অবস্থায় এর আরসিএস মাত্র 0.05 বর্গমিটার বা একটা চড়াইপাখির সমতূল্য। এছাড়াও ভারতীয় র‍্যাফালের উপর বিশেষ রেডার অ্যাবসরব্যান্ট মেটিরিয়ালের কোটিং থাকতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে, যা অবশ্যই একে রেডারের সামনে আরও বেশি ছোট এমনকি অদৃশ্য থাকতে সাহায্য করবে।

ইউরোপীয় এবং আমেরিকানদের তুলনায় চাইনিজরা এএসএ প্রযুক্তির প্রথম দিকে, আমার সন্দেহ, সম্পদশালী চীনারা তাদের রাডারগুলির অন্যান্য অপূর্ণতাগুলি তৈরি করার জন্য তাদের রাডারকে বিশাল সংখ্যক টি / আর মডিউল দিয়ে রেখেছে।

অস্ত্রঃ রাফালের MBDA BVRAAM METEOR মিসাইল পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিয়ন্ড ভিস্যুয়াল রেঞ্জ মিসাইল, যা রাফালকে অন্যান্য যুদ্ধ বিমানের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে দেয়। METEOR মিসাইল ১০০ কিলোমিটার দূরবর্তী টার্গেটেও শত্রুপক্ষের বিমানকে নিখুঁত নিশানায় হামলা করতে সক্ষম, এই মিসাইলের নো-এসকেপ জোন হচ্ছে ৬০ কিলোমিটার। অর্থাৎ রাফালের ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকলে পালানোর পথ নেই সেই বিমানের METEOR মিসাইল-এর আঘাত থেকে বাঁচা একেবারেই অসম্ভব।

MICA IR BVRAAM : MICA হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর সব থেকে লং রেঞ্জের ইনফ্রারেড মিসাইল সিস্টেম। MICA ব্যবহারের সুবিধা হল, রাফাল তার রেডার অফ করে দিলেও MICA এর ইনফ্রারেড সীকার-এর সাহায্যে শত্রুপক্ষের বিমানকে চিনে আঘাত করতে সক্ষম হবে, অন্যদিকে রেডার অফ করার দরুণ শত্রুপক্ষের রেডারের কাছে রাফাল অদৃশ্য থাকতে পারবে।

SCALP মিসাইলঃ রাফালে যুক্ত SCALP মিসাইল একে এয়ার টু গ্রাউন্ড মিশনে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলেছে। SCALP মিসাইল এর রেঞ্জ ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি। অর্থাৎ রাফাল লক্ষ্যের বহু দূরে অবস্থান করেও সহজেই লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে সক্ষম হবে এর দ্বারা। বালাকোট টাইপের মিশনে SCALP মিসাইল যুক্ত রাফাল এক অমোঘ অস্ত্র।

ম্যানুয়েভারিবিলিটি: এর অস্থির ডেল্টা উইং কনফিগারেশনটি আরও ভাল নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে এবং ক্যানার্ডগুলির সহায়তায় ক্লোজ এনকাউন্টারের সময় বিমানটিকে দারুণ তৎপরতা দেয়। তাছাড়া বর্তমানে রাফালের থ্রাস্ট ভেক্টর সক্ষমতা যুক্ত একটি নতুন ইঞ্জিন এম -৮৮-৩ ডি আন্ডার ডেভেলপমেন্ট রয়েছে।
আশা করা যায় রাফাল F-4 এর সের‍্যাটেড নজল, রিট্র্যাক্টেবল ফুয়েল প্রোব, Talios targeting pod এবং Ereos reconnaissance pod, RAM কোটিং এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে এর দুটি টেলফিনের নতুন ডিজাইন এটিকে এমনকি সম্পূর্ণ ভাবে ডেভেলপড জে -20 চেংদুর তুলনায় যথেষ্ট ভাল অবস্থানে রাখবে। চেংদু জে -20 বর্তমানে যে অবস্থায় রয়েছে তাতে এমনকি রাফাল F-3R-ও একে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

উপসংহার:
রাফাল 4.5++ জেনারেশন ফাইটার হলেও কিন্তু জে -20র মতোই সুপারক্রুইজ ক্ষমতাযুক্ত। তাছাড়াও রাফাল পুরোপুরি স্টেলথ বিমান বলে দাবী না করা হলেও স্টেলথ হওয়ার মতো বহু উপকরণ এর মধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে স্টেলথ বিমানের খরচকে সীমার মধ্যে বেঁধে রেখে।
উল্লেখ্য , ২০১৭ সালে ভারতীয় বিমানবাহিনী তাওয়াং থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের লাসাতে যুদ্ধাভ্যাসরত জে -20 কে রেডারের সাহায্যে ডিটেক্ট করে ফেলে। ফলে জে -20 বাস্তবে কতটা স্টেলথ আর কতটাই বা চীনা ঢক্কানিনাদ তা নিয়ে সন্দেহ করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কিন্তু যুদ্ধের ট্যাক্টিস, স্ট্র্যাটেজি, ট্রেনিং এবং লজিস্টিক্সের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। একজন নভিস পাইলট চালিত পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার সর্বাদাই একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ পাইলট দ্বারা চালিত 4.5++ জেনারেশনের ফাইটারের তুলনায় যথেষ্ট অসুবিধায় থাকবে। কিন্তু এটাও ঠিক এই মুহূর্তে ভারতের একটি পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটারের দরকার ছিল। ভারতের হাতে যদি রাশিয়ান সু-৫৭ থাকত বা মার্কিন এফ-৩৫ থাকত তাহলে ভারত নিঃসন্দেহে আরও সুবিধাজনক অবস্থায় থাকত।

Related posts

দেশে ইস্পাতের ব্যবহার বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা

E Zero Point

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে প্রতিষেধক তৈরি এবং পরিকল্পনা বিষয়ে পর্যালোচনা বৈঠক

E Zero Point

ইন্ডিয়ার বদলে ভারতের দাবি, পিটিশন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

E Zero Point

মতামত দিন