আলেক শেখ, পূর্বস্থলী : তাঁত কারখানাগুলো খোলার দাবিতে গত ৬ জুলাই সোমবার এস টি কে কে সড়ক অবরোধ করেন সহস্রাধিক তাঁত শ্রমিক। পূর্বস্থলী-১ পঞ্চায়েত সমিতির শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফকিরতলায় আড়াই ঘন্টা ধরে অবরোধ চলার পর প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়। উৎপাদিত বস্ত্রের বিক্রি নেই অজুহাতে পূর্বস্থলীর জুন মাসের শেষের দিকে তাঁত কারখানাগুলি বন্ধ করে দেন মালিকরা। ফলে নতুন করে আবার বিপাকে পড়ে যান চার হাজার শ্রমিক। গত ১৯ শে জুন লাগাতার সংগঠিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কোন রকমই মজুরি না কমানোর দাবি আদায় করেন পূর্বস্থলীর চার হাজার তাঁত শ্রমিক। ওইদিন পূর্বস্থলী-১ বিডিও দপ্তরে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক আলোচনার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিয়ে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেছিলেন সমস্ত কারখানার মালিকরা। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে লকডাউনের অজুহাতে জুন মাসের প্রথম দিকে শ্রমিকদের মজুরি কমিয়ে দেন মালিকরা। তারই প্রতিবাদে সিআইটিইউ অনুমোদিত পূর্ব বর্ধমান জেলা তাঁত শ্রমিক ইউনিয়নের পতাকা নিয়ে লাগাতার আন্দোলনা নামেন শ্রমিকরা। শেষে সেই আন্দোলনে জয় মেলে গত ১৯ শে জুন। আগের মজুরিই শ্রমিকদের দেওয়া হবে বলে পূর্বস্থলী-১ বিডিও-র সামনে কারখানা মালিকরা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরও করে দেন। কিন্তু তার মাত্র ১০ দিন পর আবার নতুন অজুহাতে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেন মালিকরা। এর বিরুদ্ধে শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে মালিকদের এই একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। কারখানাগুলি খোলার দাবিতে এদিন সিআইটিইউ অনুমোদিত পূর্ব বর্ধমান জেলা তাঁত শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে অবরোধ শুরু হয়। আড়াই ঘন্টা অবরোধ চলার পর স্থানীয় জয়েন্ট বিডিও এসে আগামী শুক্রবারের মধ্যে মীমাংসার আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠে যায়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন– শ্রমিক নেতা প্রবীর মজুমদার, মন্টু বিশ্বাস, অলক দেবনাথ, দেবপ্রসাদ পাল প্রমুখ।
