জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, ২২ অগাষ্ট, ২০২০:
করোনা দেশ তথা রাজ্যের অর্থনীতিতে এক বিরাট আঘাত হেনেছে। সেই ধাক্কা সামলাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক বিশেষ উদ্যোগ নিলো রাজ্য সরকার।
রাজ্যের ১২৫টি পুরসভা ও ৬টি কর্পোরেশনে ‘ডব্লুবিএসইউএলএম’ প্রকল্পে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক সাহায্য প্রদান করে রাজ্য সরকার। রাজ্যের ৬০ হাজারের মতো স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে, যারা হাঁস-মুরগি কিংবা ছাগল পালন, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্রশিল্পে উৎপাদনমুখী কাজ করে। সম্প্রতি করোনা মোকাবিলায় মাস্ক, স্যানিটাইজার ও পিপিই কিটও বানাচ্ছে কোনও কোনও স্বনির্ভর গোষ্ঠী। সরকারও যেমন ক্রয় করে সেখান থেকে ঠিক তেমনই খোলা বাজারেও বিক্রি হয়।
‘ডব্লুবিএসইউএলএম’ প্রকল্পে গতি আনতে এবার উঠেপড়ে লেগেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। অন্যদিকে রাজ্যের অর্থনীতিকে ও চাঙ্গা করার লক্ষ্য রয়েছে রাজ্য সরকারের। আর এই সব বিবেচনা করে পুর-শহরাঞ্চলের মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে খুব সহজ শর্তে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সরকার সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, মহিলারা আয়ের বড় অংশ খরচ করেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। পরের পর্যায়ে তাঁদের নজর থাকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও পোশাক-আশাকে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা উৎপাদনমুখী কাজ করলে তাদের আয় বাড়বে। অর্থাৎ বাড়বে ক্রয় ক্ষমতা। সেই টাকা পণ্য কেনাকাটায় ব্যবহার হলে অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি ফিরে আসায় সহায়ক হবে। আবার অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ মনে করেন, লকডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
উল্লেখ্য, শুধু পুর-শহরাঞ্চলে নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকে মূল স্রোতে ফেরাতে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকেও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে রাজ্য। পঞ্চায়েত এলাকায় ‘আনন্দধারা’ নামে প্রকল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির পাশে দাঁড়ায় রাজ্য। সেই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। গোষ্ঠীগুলির উৎপাদিত পণ্য বিপণনেও সাহায্য করে মমতা ব্যানার্জীর সরকার। গতকাল দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ৬০ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীকেই সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বার্ষিক সুদের হার মাত্র ৭ শতাংশ। প্রথম কিস্তিতে দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। সেই টাকা পরিশোধ করার পর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা মিলবে। এভাবে ধাপে ধাপে এক একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবে।
