29/09/2022 : 7:24 PM
BREAKING NEWS
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানমেমারি

ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলনঃ মেমারিতে শহীদ স্মরণ

জিরো পয়েন্ট নিউজ – নূর আহামেদ, মেমারি, ৩১ অগাষ্ট ২০২১:


ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলন – খাদ্য চাই, খাদ্য দাও; কেউ খাবে আর কেউ খাবে না- তা হবে না, তা হবে না…। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হবার পর কেন্দ্র ও রাজ্যে যাদের হাতে শাসনভার আসে তারা হলো দেশী-বিদেশী পুঁজিপতি ও গ্রামীণ জমিদার – জোরদারদের তল্পিবাহক। তাদের তোষন করার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসাবে দেশে খাদ্য সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। ১৯৫৯ সাল ছিল একটা ঘটনাবহুল বছর, এই বছরে খাদ্য সংকট চরমে ওঠে খোলা বাজার থেকে চাল, গম প্রভৃতির মতো অনেকগুলি অত্যাবশ্যক দ্রব্য উধাও হয়ে যায় এবং বহু  গ্রামে দুর্ভিক্ষের অবস্থা সৃষ্টি হয়। খাদ্য আন্দোলন পরিচালনা করে বামপন্থী দলগুলি ও গণ সংগঠন সমুহ। ‘মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্ভিক্ষ পতিরোধ’ গঠন করে এই আন্দোলন গড়ে তোলা হয় তৎকালীন কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারের খাদ্য নীতির প্রতিবাদে।

৩১ শে আগস্ট খাদ্যমন্ত্রীর অপসারন ও খাদ্যের দাবিতে এবং পুলিশি দমন-পীড়নের প্রতিবাদে কলকাতায় শহীত মিনার ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হলো। মহাকরণ অভিমুখে চলমান শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর পুলিশ লাঠি চালায়। সহস্রাধিক মানুষ পুলিশের আক্রমণে আহত হলেন। সাধারণভাবে বলা হয় ৮০ জন, কিন্তু কয়েকশত মানুষ ঐ বর্বর আক্রমনে মারা যান। শেষ রাতে প্রচুর মৃতদেহ পাচার করে দেয় সরকারি বাহিনী। এই বর্বরোচিত হত্যার প্রতিবাদে তারপরের দিন ১লা সেপ্টেম্বর বামপন্থী ছাত্র যুবরা পুনরায় মিছিল করলে, সেই মিছিলে নেমে আসে পুলিশের বর্বরোচিত আক্রমণ। কৃষকদের স্বার্থে যারা নিজেদেরকে আত্মবলিদান দিয়েছেন, প্রতিবছর ৩১ শে আগস্ট সিপিআইএম এর তরফ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


মঙ্গলবার সিপিআইএম মেমারি ১ পূর্ব ও পশ্চিম ব্লক কৃষক সভার উদ্যোগেমেমারি স্টেশন বাজারে শহীদ বেদীতে মাল্যদানের মধ্যে দিয়ে সভা শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তাজ আলি দফাদার, বক্তব্য রাখেন, সিআইটিইউ বর্ধমান জেলা সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত কোঙার।

তিনি বলেন, খাদ্য আন্দোলন যে সকল শহীদ প্রাণ দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৃষকদের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের স্বার্থে তাদেরকে ব্যবহার করছে। ২০১১ যখন আমরা ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হই। তখন প্রায় ৭২ শতাংশ কৃষি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করে দিয়েছি আমরা। যা আমাদের এক অভাবনীয় সাফল্য। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত হয়েছি। মেনে নিয়েছি মানুষের রায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে কৃষকদের কি পরিস্থিতি?

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে, কৃষকদেরও ব্যবহার করতে ছাড়েননি। ফলতো একাধিক কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। বামেরা যখন প্রথম ক্ষমতায় আসে তখন রাজ্যে খাদ্য সংকট চরমে। ফলে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারলে প্রাথমিকভাবে সেই খাদ্য সংকট মেটানো সম্ভব হবে। সেই উদ্যোগে একাধিক ক্ষেত্রে বামেরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার কৃষকদের জন্য কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেননি।

এদিনের সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষক নেতা জয়দেব ঘোষ সহ অন্যান্য কৃষক নেতৃত্ব। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এদিনের এই স্মরণসভায় উপস্থিতির সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো আবারো সিপিআইএমের কৃষক আন্দোলন কে পুনরুজ্জীবিত করে তুলতে সাহস যোগাবে।

Related posts

‘‘ভোটের আগে আসছেন। ভোটের পরেও তো আসতে হবে!’’ নন্দীগ্রামে নাম না করে বার্তা

E Zero Point

মেমারি পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডে মোমবাতি মিছিল

E Zero Point

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুঃ আদিবাসী সম্প্রদায়ের র‍্যালি

E Zero Point

মতামত দিন