27/08/2026 : 9:01 AM
আমার বাংলাদক্ষিণ বঙ্গপূর্ব বর্ধমানমেমারি

নাড়া পোড়াতে গিয়ে চাষীর মর্মান্তিক মৃত্যু মেমারিতেঃ প্রচার হলেও চাষীরা সচেতন কেন নয়? প্রশাসনের ভূমিকা কি?

জিরো পয়েন্ট নিউজ, এম. কে. হিমু, ২৬ নভেম্বর ২০২২:


বর্তমানে সময় ও খরচ বাঁচানোর জন্য রাজ্যের অধিকাংশ কৃষক মেশিনের দ্বারা ধান কাটার কাজ করছে। ফলে অধিকাংশ মাঠে পড়ে থাকছে ধানের অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ ধানের খড় বা নাড়া। আগে সেই খড় বিভিন্ন কাজে লাগতো কিন্তু মেশিনে ধানকাটার ফলে খড় বা নাড়া আর কোন কাজে লাগে না ফলে কৃষকেররা সেগুলি জ্বালিয়ে দেয়। এইসময় কৃষকদের যথেচ্ছভাবে ধান ক্ষেতের নাড়া কিংবা পোয়াল পোড়ানোর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হয় অপরদিকে বিশ্ব উষ্ণায়ণ বৃদ্ধি পায়। এমনকি জমির উর্ব্বরা শক্তিও কমে যায়।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবেশ দপ্তর প্রতি বছর বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে যথেচ্ছভাবে ধান ক্ষেতের অবশিষ্টাংশ খড় ও নাড়া পোড়ানো আইনত নিষিদ্ধ। এব্যপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচার করা হলেও আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মেমারি ১ ও ২ ব্লকের প্রায় সকল ধানক্ষেতে নাড়া পোড়ানো হচ্ছে অবাধে। শুধু সরকারী প্রচারই নয় প্রতি বছর নিয়ম করে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকেও প্রচার করা হয়, চাষীদের সচেতন করার কাজে মাঠে নামেন বিজ্ঞানকর্মীরা। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে তাহলে চাষীরা সচেতন নয় কেন কিংবা সরকার আইনবিরুদ্ধ কাজের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কি আদৌও গ্রহণ করে?

জমিতে নাড়া পোড়াকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানার অন্তর্গত কলানবগ্রামে। শুক্রবার সকালে জমিতে নাড়া পোড়াতে গিয়ে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মাঠেই মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। জানা যায় মৃত ব্যক্তির নাম দিলীপ চক্রবর্তী (৭২)। বেলা ১০টা নাগাদ এই ভয়ানক ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এই ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে চরম আতংক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমির ধান তুলে নেওয়ার পর ধানের গোড়া গুলো কে পুড়িয়ে ফেলার জন্য এদিন নিজের জমিতেই আগুন ধরিয়ে ছিলেন দিলীপ চক্রবর্তী । পরে সেই আগুন পাশের জমিতেও ছড়িয়ে পরে। পাশে অন্যের জমিতে সেই সময় ধান কাটার পর জড়ো করা অবস্থায় ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চোখের সামনে অন্যের জমির ধান পুড়ে যাচ্ছে দেখে দিলীপ চক্রবর্তী মাঠেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন। আর তখনই জমির আগুনের গ্রাসে দগ্ধ হয়ে যান ওই ব্যক্তি। এলাকাবাসীর নজরে আসার পরই ওই ব্যাক্তিকে কোনরকমে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন তারা। খবর দেওয়া হয় মেমারি থানায়। পুলিশ এসে দেহ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

 


Related posts

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে মেমারিতে আরপিএফের বিশেষ নজরদারি

E Zero Point

মহরমের খরচ বাঁচিয়ে স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ পান্ডুয়াতে

E Zero Point

উৎসশ্রী কি কোনো নতুন দূর্নীতির জন্ম দেবে?

E Zero Point

মতামত দিন