27/02/2026 : 4:32 AM
আমার দেশ

তৃতীয় লিঙ্গেরই স্বর সঙ্কটেঃ সেমিনারের আগেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু মেমারি কলেজ

জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক,  আনোয়ার আলি আনসারী, মেমারি, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ :


বার বার বিতর্কের কেন্দ্রে থাকেন মেমারি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. দেবাশীষ চক্রবর্তী। মেমারি কলেজে তাঁর দীর্ঘ সময়কালীন কলেজের পড়াশুনোর মান উন্নতি হলেও কিছু আভ্যন্তরীন বিষয়ের সাথে সাথে পারিপার্শ্বিক ঘটনায় প্রিন্সিপ্যালের নাম জড়িয়ে পরে। যা মেমারি কলেজের সুনাম নষ্ট হয়ে জনমানসের মধ্য়ে। সম্প্রতি সেরকমই এক ঘটনার কেন্দ্রে বিন্দুতে রইলেন মেমারি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. দেবাশীষ চক্রবর্তী।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর সোমবার মেমারি কলেজের উদ্যোগে তৃতীয় লিঙ্গঃ স্বর ও সঙ্কট শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করেছে। সহযোগী হিসাবে আছে ইন্টারন্যাশনাল বাই-লিঙ্গুয়াল জার্নাল অন্তরমুখ। অনলাইন ও অফলাইন মুড এই সেমিনারে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. আহাসুনুজামান, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সন্তোষ পাল ও ড. অংশুমান কর।

এই পর্যন্ত কোন বিতর্ক কিংবা সমস্যা ছিল না। অত্যন্ত ভালো বিষয় নিয়ে সেমিনার কিন্তু একটি ফেসবুক পোষ্টে গোটা সেমিনারের ব্যকগ্রাউন্ড গল্প -অবাক করার মতো। আর পোষ্টটি করেছেন কে? সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয় প্লাটফর্ম ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন ড. মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী অধ্যক্ষ। তিনি বাংলায় পিএইচডি করেন এবং বিবেকানন্দ শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের বাংলার সহযোগী অধ্যক্ষ ছিলেন।  ৭ জুন ২০১৫ সালে তিনি কৃষ্ণনগর ওমেন্স কলেজের  প্রধান অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের ট্রান্সজেন্ডার ওয়েলফেয়ার বোর্ডের ভাইস চেয়ারপার্সনও হন। 

কী সেই পোষ্টে লেখা আছে, জেনে নেওয়া যাক-  “আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস এ গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি উচ্চ শিক্ষার জগতে কিছু উচ্চ শিক্ষিত মানুষ ট্রান্সজেন্ডার ফোবিয়া আক্রান্ত হয়ে তৃতীয় লিঙ্গ নারীদের মানবাধিকার কে কিভাবে ভূলুণ্ঠিত করেছেন !  অত্যন্ত বেদনার বিষয়! একটি কলেজের প্রিন্সিপাল আমার সঙ্গে তার কলেজের কিছু অধ্যাপক মহোদয়কে যোগাযোগ করান! তারা ট্রান্সজেন্ডার বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার করবেন তাদের কলেজে ! প্রচুর আলোচনা এবং বিস্তারিত শ্রম দানের পর বিষয় ঠিক হয় তৃতীয় লিঙ্গ : স্বর ও সংকট! তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে গবেষণা গোটা ভারতবর্ষে খুব বেড়ে গেছে সুপ্রিম কোর্ট ভার্ডিক্ট এবং ইউজিসি-র কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে! মুশকিল যারা রিসার্চ করবেন সেমিনার করবেন তাদের অবচেতনে তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে বিবমিষা বা ফোবিয়া!  ঐ সেমিনার -এ তৃতীয় লিঙ্গ -র স্বর তো বলতে পারবেন তৃতীয় লিঙ্গরাই!

আমি সেই মতো পশ্চিমবঙ্গের কিছু উচ্চ শিক্ষিত এবং স্কুল কলেজে শিক্ষকতায় যুক্ত তৃতীয় লিঙ্গ নারীর নাম তাদের জানাই, যারা ওখানে বক্তা হতে পারবেন এবং বক্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন ! তখনই ঘুরে বসেন সেমিনার পক্ষ! তারা কিছুতেই মেনে নেবেন না তৃতীয় লিঙ্গকে বক্তার আসনে, হোক না তারা উচ্চ শিক্ষিত বা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষক হিসাবে যুক্ত!

 

এরপর ওরা জানান অনিবার্য কারণে সম্পূর্ণ সেমিনারটাই তারা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন! কিন্তু নিয়তির পরিহাস! দেখা যায় ওরা ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ এর পরিবর্তে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ সেমিনার রাখছেন! আর সেখানে বক্তা হিসেবে রয়েছেন সেইসব অধ্যাপক যারা তৃতীয় লিঙ্গর মানুষ নন! অথচ সেমিনারে তৃতীয় লিঙ্গর স্বর সংকট নিয়ে বলার অধিকার রাখেন! আমরা তৃতীয় লিঙ্গরা সারাজীবন প্রতিটি পদে ঠকি! কিন্তু এমন মানবাধিকার থেকে প্রতারণা আমার বৃদ্ধ বয়সে প্রথম! আমার থেকে সব কিছু মালমশলা নিয়ে সেমিনার করছেন তারা!
হায় রে অধ্যাপনা, উচ্চ শিক্ষা, সেমিনার, নোবেল প্রফেশন! ????

 

সত্যিই অবাক  করার মতো বিষয়,  আগামী ১৬ ডিসেম্বর সোমবার মেমারি কলেজের উদ্যোগে তৃতীয় লিঙ্গঃ স্বর ও সঙ্কট শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করেছে তাতে নেই কোন তৃতীয় লিঙ্গের স্বর আর ব্যাকগ্রাউন্ড গল্প অনুসারে সেই স্বরকেই হত্য়া করা হলো মেমারি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল  ড. দেবাশীষ চক্রবর্তীর দ্বারা। আর বছর শেষে আবার বিতর্কের কেন্দ্র বিন্দু হলেন তিনি।
এ বিষয়ে জিরো পয়েন্টের প্রতিনিধি দূরাভাষে বর্তমানে দক্ষিন ২৪ পরগনার ধোলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি পুরো ঘটনাটি জানান জিরো পয়েন্টের প্রতিনিধিকে। সমগ্র বিষয়টি নিয়ে খুবই কষ্ট পেয়েছেন তিনি। এমনকি মানবিধাকার কমিশনে অভিযোগও করেছেন এ বিষয়ে। মেমারি কলেজ কর্তৃপক্ষে ব্যবহারে তিনি ব্যথিত।
ঘটনার সত্যতা জানার জন্য মেমারি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. দেবাশীষ চক্রবর্তীর সাথে দূরাভাষে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। জিরো পয়েন্টের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ নাম্বার, মেমারি কলেজের অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বার, কলেজের ল্যান্ডলাইন নাম্বার ( যদিও সেটার অস্তিত্ব নেই বলে জানা যায়) যোগাযোগ করে বিষয়টি সম্পর্কে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অবশেষে সেমিনার সংক্রান্ত পোষ্টার থেকে প্রাপ্ত মেমারি কলেজের আই কিউ এ সি কো-অর্ডিনেটর ড. অনুপম গড়াইয়ের সাথে দূরাভাষে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনি অঙ্কের প্রফেসর ১৬ ডিসেম্বর আয়োজিত সেমিনারের কো-অর্ডিনেটর। এবিষয়েই তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। তবে ড. মানবী বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সাথে যে ঘটনাটি ঘটেছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সমস্ত ব্যপারটি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. দেবাশীষ চক্রবর্তী বলতে পারবেন।
তাহলে বলা বাহুল্য ১৬ ডিসেম্বর মেমারি কলেজে আয়োজিত সেমিনারের তৃতীয় লিঙ্গেরই স্বর সঙ্কটে। সঙ্গটে তৃতীয় লিঙ্গের সংগ্রাম।

Related posts

“গোয়া সরকার রাজ্যের উন্নয়নের নতুন নীল নকশা নিয়ে এসেছে”-প্রধানমন্ত্রী

E Zero Point

৮ ডিসেম্বর ভারত বনধঃ ভারত দেখতে চায়, অন্নদাতার পক্ষে কে ?

E Zero Point

মহামারীর সময় মানসিক সমস্যা বেড়েছে

E Zero Point

মতামত দিন