জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, আনোয়ার আলি আনসারী, মেমারি, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ :
বার বার বিতর্কের কেন্দ্রে থাকেন মেমারি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. দেবাশীষ চক্রবর্তী। মেমারি কলেজে তাঁর দীর্ঘ সময়কালীন কলেজের পড়াশুনোর মান উন্নতি হলেও কিছু আভ্যন্তরীন বিষয়ের সাথে সাথে পারিপার্শ্বিক ঘটনায় প্রিন্সিপ্যালের নাম জড়িয়ে পরে। যা মেমারি কলেজের সুনাম নষ্ট হয়ে জনমানসের মধ্য়ে। সম্প্রতি সেরকমই এক ঘটনার কেন্দ্রে বিন্দুতে রইলেন মেমারি কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ড. দেবাশীষ চক্রবর্তী।
আগামী ১৬ ডিসেম্বর সোমবার মেমারি কলেজের উদ্যোগে তৃতীয় লিঙ্গঃ স্বর ও সঙ্কট শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করেছে। সহযোগী হিসাবে আছে ইন্টারন্যাশনাল বাই-লিঙ্গুয়াল জার্নাল অন্তরমুখ। অনলাইন ও অফলাইন মুড এই সেমিনারে বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. আহাসুনুজামান, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সন্তোষ পাল ও ড. অংশুমান কর।
এই পর্যন্ত কোন বিতর্ক কিংবা সমস্যা ছিল না। অত্যন্ত ভালো বিষয় নিয়ে সেমিনার কিন্তু একটি ফেসবুক পোষ্টে গোটা সেমিনারের ব্যকগ্রাউন্ড গল্প -অবাক করার মতো। আর পোষ্টটি করেছেন কে? সামাজিক মাধ্যমের জনপ্রিয় প্লাটফর্ম ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন ড. মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী অধ্যক্ষ। তিনি বাংলায় পিএইচডি করেন এবং বিবেকানন্দ শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের বাংলার সহযোগী অধ্যক্ষ ছিলেন। ৭ জুন ২০১৫ সালে তিনি কৃষ্ণনগর ওমেন্স কলেজের প্রধান অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের ট্রান্সজেন্ডার ওয়েলফেয়ার বোর্ডের ভাইস চেয়ারপার্সনও হন।
কী সেই পোষ্টে লেখা আছে, জেনে নেওয়া যাক- “আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস এ গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি উচ্চ শিক্ষার জগতে কিছু উচ্চ শিক্ষিত মানুষ ট্রান্সজেন্ডার ফোবিয়া আক্রান্ত হয়ে তৃতীয় লিঙ্গ নারীদের মানবাধিকার কে কিভাবে ভূলুণ্ঠিত করেছেন ! অত্যন্ত বেদনার বিষয়! একটি কলেজের প্রিন্সিপাল আমার সঙ্গে তার কলেজের কিছু অধ্যাপক মহোদয়কে যোগাযোগ করান! তারা ট্রান্সজেন্ডার বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার করবেন তাদের কলেজে ! প্রচুর আলোচনা এবং বিস্তারিত শ্রম দানের পর বিষয় ঠিক হয় তৃতীয় লিঙ্গ : স্বর ও সংকট! তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে গবেষণা গোটা ভারতবর্ষে খুব বেড়ে গেছে সুপ্রিম কোর্ট ভার্ডিক্ট এবং ইউজিসি-র কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে! মুশকিল যারা রিসার্চ করবেন সেমিনার করবেন তাদের অবচেতনে তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে বিবমিষা বা ফোবিয়া! ঐ সেমিনার -এ তৃতীয় লিঙ্গ -র স্বর তো বলতে পারবেন তৃতীয় লিঙ্গরাই!
আমি সেই মতো পশ্চিমবঙ্গের কিছু উচ্চ শিক্ষিত এবং স্কুল কলেজে শিক্ষকতায় যুক্ত তৃতীয় লিঙ্গ নারীর নাম তাদের জানাই, যারা ওখানে বক্তা হতে পারবেন এবং বক্তা হওয়ার যোগ্যতা রাখেন ! তখনই ঘুরে বসেন সেমিনার পক্ষ! তারা কিছুতেই মেনে নেবেন না তৃতীয় লিঙ্গকে বক্তার আসনে, হোক না তারা উচ্চ শিক্ষিত বা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষক হিসাবে যুক্ত!











