15/04/2026 : 2:13 PM
অন্যান্য

ঐতিহাসিক মে দিবস পালিত হল মেমারিতে

নূর আহমেদ, মেমারিঃ মেমারি সিপিআইএম কালিতলা পার্টি অফিসে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক মে দিবস পালিত হয়। পতাকা উত্তোলন করেন অভিজিৎ কোঙার। তিনি শহীদ বেদীতে মাল্যদানের পর মহান ঐতিহাসিক মে দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিযুষ বিশ্বাস, প্রশান্ত কুমার, মণীষা চক্রবর্তী, শ্যামলীনা কোঙার, অনিল মুখার্জি, পিন্টু ভট্টাচার্য প্রমুখ । এছাড়াও মেমারি চকদিঘী মোড়ে সি.আই.টি.ইউ-র ইউনিয়ন অফিসের শহীদ বেদীতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন কমলাকান্ত রায়।

রাজ্য তথা জেলাজুড়ে বিভিন্ন পার্টি অফিসে বামনেতা ও কর্মীরা শ্রদ্ধার সাথে মে দিবস পালন করেন।

 

মে দিবসের ইতিহাসঃ


১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয়। সেদিন দৈনিক আটঘণ্টার কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। ফলে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়।  ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে।  ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিকের দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এর পরপরই ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। পরে, ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে দৈনিক আটঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে পয়লা মে তারিখে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজন করতে সকল সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল এবং শ্রমিক সংঘের (ট্রেড ইউনিয়ন) প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেই সম্মেলনে “শ্রমিকদের হতাহতের সম্ভাবনা না-খাকলে বিশ্বজুড়ে সকল শ্রমিক সংগঠন মে মাসের ১ তারিখে ‘বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না-করার’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অনেক দেশে শ্রমজীবী জনতা মে মাসের ১ তারিখকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালনের দাবি জানায় এবং অনেক দেশেই এটা কার্যকর হয়। দীর্ঘদিন ধরে সমাজতান্ত্রিক, কমিউনিস্ট এবং কিছু কট্টর সংগঠন তাদের দাবি জানানোর জন্য মে দিবসকে মুখ্য দিন হিসাবে বেছে নেয়। কোনো কোনো স্থানে শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে আগুনও জ্বালানো হয়ে থাকে।  পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র, চিন, কিউবাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মে দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সেসব দেশে এমনকি এ উপলক্ষ্যে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ এবং ভারতেও এই দিনটি যথাযথভাবে পালিত হয়ে আসছে। ভারতে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে।আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম দিবস পালিত হয়। সেখানকার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমের নাইট এই দিন পালনের উদ্যোক্তা। হে মার্ কেটের হত্যাকাণ্ডের পর আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন পয়লা মে তারিখে যেকোনো আয়োজন হানাহানিতে পর্যবসিত হতে পারে। সে জন্য ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দেই তিনি নাইটের সমর্থিত শ্রম দিবস পালনের প্রতি ঝুঁকে পড়েন।

Related posts

পি.কে.-এর পর আর এক কিংবদন্তী ফুটবলার চুনী গোস্বামী ময়দান ছাড়লেন

E Zero Point

অনলাইন রবীন্দ্র জয়ন্তী :~ লকডাউনে কবিপ্রণাম : দ্বিতীয় পর্ব (সকাল-১১টা)

E Zero Point

কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী দিল্লিতে নবম এবং দশম শ্রেণীর জন্য বিকল্প পাঠক্রমের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছেন

E Zero Point

মতামত দিন