জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, বর্ধমান, ১৪ জুন ২০২১:
অনেকে বলেন “মোহনবাগান নামে জোর নয় তোড় আছে” । আর এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই বর্ধমান থেকে ৩০০ কিমি পথ পেরিয়ে শংকরপুর , তাজপুর , মন্দারমনি ইয়াস বিধস্ত এলাকায় ত্রান বিলি করলো পূর্ব বর্ধমান মেরিনার্স। ব্যাগ ভরে বিলি করা হল চিঁড়ে ১ কেজি, গুড় – ২৫০ গ্রাম, ছাতু – ২০০ গ্রাম, চানাচুর- ২০০ গ্রাম , মেরি বিস্কুট – ৩০০ গ্রাম, আমূল গোল্ড – ১ প্যাকেট, মুড়ির প্যাকেট – ১ কেজি, চিঁড়ে ভাজা – ১ টি, ম্যাগি – ১ প্যাকেট, সাবান – ১ টি, স্যানিটারি ন্যাপকিন – ১ টি, ব্লিচিং পাউডার – ৪০০গ্রাম, মশা মারা ধুপ – ১ প্যাকেট, মাস্ক এবং স্যানিটাইজার, নতুন শাড়ি (১০০ জনকে) আর সাথে প্রয়োজনীয় মেডিসিন।

একেবারে সকাল থেকে শুরু, প্রথমে রামনগর- ১ ব্লক এর তালগাছাড়ি -২ পঞ্চায়েত এলাকায় ৭০ পরিবারকে ত্রাণ বিলি , সেখানেই একই সাথে চলতে থাকে আয়লা সেন্টারে হেলথ চেকআপ ও মেডিসিন প্রদান। গ্রামের লোক তখন পূর্ব বর্ধমান মেরীনার্স এর সদস্যদের দেখাচ্ছে রাস্তার দুদিকে কিভাবে তাদের চাষের জমি ও পানের বরজের দখল নিয়েছে সাগরের নোনা জল।

সেখান থেকে চাঁদপুর এর সমুদ্র সংলগ্ন এলাকায় যখন প্রবেশ করল টিম পি.বি.এম. দুপুর তখন ১২ টা। সেখানেও হেলথ চেকআপ আর সাথে ৮৩ টি পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া যখন শেষ হল ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ২ টো।রাস্তায় যাতায়াতে পড়ে উত্তর জলোধা গ্রাম। সেখানেও প্রায় ৩০টি পরিবারকে ত্রাণ প্রদান। শেষ এখনও হয়নি , কাজ এখনও বাকি!

এরপর চাউলখোলা হয়ে রানিয়া বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে পি.বি.এম. টিম এর গন্তব্য মন্দারমনি। রামনগর-২ ব্লক এর কালিন্দী-১ পঞ্চায়েত। একেবারে সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী গ্রাম ,একটা ঘরের আর চিহ্ন নেই। সাধের পুকুরে জমেছে পচা মাছ আর নোনা জল। পানীয় জল আর খাবার- সে তো মরীচিকা। সেখানে মোট ৭০ জনের হাতে তুলে দেওয়া হল ত্রাণ সামগ্রী আর সাথে সাথে করা হল হেলথ চেকআপ।
সেখান থেকে ফেরার পথে ত্রাণের অপেক্ষায় রাস্তার দুধারে বিভিন্ন গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা আরো প্রায় ৬৫ জনের হাতে খাবার ও নিত্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হলো। রাত তখন ২ টো। সুকান্ত , প্রিয়ব্রত , অয়ন , দেবায়ন , সুমন্তদের ২৬ ঘন্টার সফর শেষে বাড়ি ফেরার সময়, পূর্ব বর্ধমান মেরীনার্স লড়ে চলেছে ক্লান্ত হীন ভাবে আমফান থেকে “ইয়াস” , সদা সর্বদা, এ যেন প্রকৃতির রোষাণলকে ৩ গোল দেওয়ার শপথ !

