জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, ২৩ অগাষ্ট, ২০২০:
বিরুৎ বা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ তুলসী প্রাচীনকাল থেকে রকমারি ওষধি গুণের ক্ষমতাসম্পন্ন। মহার্ঘ তুলসীর উপকারিতা নিয়ে সারা দেশ জুড়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে। তবে ছয় প্রজাতির মধ্যে নয় ধরনের তুলসী গাছ সাধারণত নজরে পড়ে। তুলসী চাষ করলে যে অনায়াসে আর্থিক অপচয় থেকে রেহাই মেলে, তার দিশা দেখাচ্ছে উত্তর দিনাজপুর। তুলসির অ্যান্টি ভাইরাল গুণ রয়েছে যা জ্বর-সর্দিকাশিতে কাজ দেয়। গৃহস্থবাড়িতে বহুযুগ ধরেই এর ব্যবহার হয়ে আসছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির জন্য তুলসি ও অশ্বগন্ধার চাহিদা তুঙ্গে উঠেছে। তাই এবার আরও প্রায় ১৭০০ একর বা পাঁচ হাজার বিঘা জমিতে তুলসি ও অশ্বগন্ধার চাষ করবে রাজ্য।
সূত্রের খবর, রাজ্যে বর্ধমান, পুরুলিয়া সহ দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তুলসি চাষ হয়। সেই এলাকার পরিসর এবার বাড়ানো হচ্ছে। তুলসির তুলনায় অশ্বগন্ধার চাষ হয় অনেক বেশি জায়গায়। যেমন উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া প্রভৃতি। সেই চাষের ক্লাস্টারের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে রাজ্য। রাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার একর জমিতে নানা ধরনের ভেষজ উদ্ভিদের চাষ হয়। তা বাড়িয়ে ১০ হাজার একর করা হবে। তার মধ্যে করোনা পরিস্থিতির জন্য তুলসি ও অশ্বগন্ধার চাষ অবিলম্বে বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, এখনও এ দেশে অতিমারীর সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা ওষুধ বের করতে পারেনি অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। একমাত্র ভরসা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। আর সেজন্যই হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত আয়ুর্বেদিক ওষধির উপর ভরসা বেড়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষত, তুলসি, কালোমরিচ, অশ্বগন্ধা, গুরুচি বা গুলঞ্চ, শুকনো আদা বা শুঁঠ, দারচিনি ইত্যাদির চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ। এগুলির কয়েকটি নিয়ে তৈরি আয়ুর্বেদিক ক্বাথ ইতিমধ্যেই সরকারিভাবে কিনে রোগী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিসকে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি আয়ুর্বেদিক ওষুধ কোম্পানিগুলির কাঁচামাল হিসেবেও তুলসির চাহিদা রয়েছে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা জানান, তুলসি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। ফলে করোনা ভ্যাকসিন এলেও তুলসির চাহিদা কমার নয়। অন্যদিকে রোগ প্রতিরোধক গুণের জন্য অশ্বগন্ধাও বিখ্যাত।

