জিরো পয়েন্ট নিউজ – এস.নূরুল, মুর্শিদাবাদ, ২৬ জানুয়ারি ২০২১:
২৪ জানুয়ারি জঙ্গীপুর রবীন্দ্রভবনে চরম উৎসাহ উদ্দীপনা র সাথে সারাদিন ব্যাপী উদযাপিত হল ‘প্রথম জঙ্গীপুর সাহিত্য উৎসব ২০২১’ ও সাহিত্য শিল্পকলা, সাংবাদিকতা তে গুণীজন সম্মাননা। আয়োজনে জঙ্গীপুর সাহিত্য সমন্বয় পরিষদ(সাহিত্য ও সমাজ কল্যান পরিষদ) যার মূখ্য উপদেষ্টা জঙ্গীপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান এবং যিনি প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
এছাড়া অনুষ্ঠান আয়োজন যৌথ সহযোগিতায় নূর চ্যারিটেবল সোসাইটি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মুর্শিদাবাদ জেলাপরিষদের মেন্টর মোঃ সোহরাব সাহেব। গোটা মহকুমা তথা জেলার বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিক দের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ কর্মী করিমুল হক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বিদ্যুৎ তরফদার, যুবকল্যান আধিকারিক অর্ঘ লাহিড়ী, জঙ্গিপুর পৌর প্রশাসক মোজাহারুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিল্পানুরাগি ,জননেতা শেখ মোহাম্মদ ফুরকান, বিশিষ্ট প্রবন্ধকার সৈয়দ খালেদ নৌমান, কবি ও সাহিত্যিক সন্দীপ বিশ্বাস, শিক্ষক নেতা বিশিষ্ট সমাজকর্মী জুলফিকার আলী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে আগত আমন্ত্রিত কবিদের কবিতা পাঠের সাথে সাথে গল্পকার, গায়কদের প্রায় একশো কুড়ি জন কে মানপত্র ও স্মারক দিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। জঙ্গিপুরের ভূমি পুত্র দের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নূর স্মৃতি সম্মান ২০২১ প্রদান করা হয়।
প্রখ্যাত সাহিত্যিক ,মুর্শিদাবাদের গর্ব কাজী আমিনুল ইসলাম ও ছোট গল্পকার কুনাল কান্তি দে কে সাহিত্য ক্ষেত্রে, শিল্পকলায় তথ্য চিত্র নির্মাতা ও ইতিহাস নিয়ে কাজ করা সুমিত ঘোষ ও চলচিত্র নির্মাতা তরুন শিল্পী মোহাম্মদ দাউদ হোসেন, সমাজ সেবায় মিশন ন্যায় ও ন্যাশনাল হিউম্যান ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেসন কে ও সাংবাদিকতার জন্য বিমান হাজরা ও শাহজাদ হোসেন কে ‘নূর স্মৃতি সম্মাননা ২০২১’ প্রদান করা হয়।
সাংসদ খলিলুর রহমান তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাবার কথা বলেন ও দেশের বহুত্ববাদ ও বৈচিত্ররের মধ্যে ঐক্যের ক্ষেত্রে সাহিত্যিক ও সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন।তিনি এই সাহিত্য সমন্বয় পরিষদের জেলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সাফল্য কামনা করেন।এবং এই পরিষদ কে সর্বত ভাবে সবরকম সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন। তিনি আহ্বায়ক গোলাম কাদের এর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
শিক্ষাবিদ ,জননেতা শেখ মোহাম্মদ ফুরকান আগত সমস্ত কবি সাহিত্যিক, ও নিজ ক্ষেত্রে গুনীদের স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে এই কর্মযজ্ঞে উপস্থিত বিভিন্ন সরকারি আধিকারিক ও পদাধিকার ব্যক্তিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন,”বর্তমান সময়ে ভারতবর্ষের মতো বহু মতের সহনশীল দেশে তথা বাংলায় একটা অসহিষ্ণু, ফ্যাসিস্ট শক্তি বিভাজন ও অসহিষ্ণু বাতাবরণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।এই অবস্থায় কবি, সাহিত্যিক সাংবাদিক রায় তাদের লেখনীর মাধ্যমে নাগরিকদের সচেতনও এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে।তারাই পারে সমাজে রেমেডি আনতে।“
তিনি সাংসদ খলিলুর রহমান ও তাঁর স্বর্গীয় পিতার নামে নূর চ্যারিটেবল সোসাইটি কে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান ও ভবিষ্যতে তাদের কে সমাজের স্বার্থে এইভাবে পাশে পাবার আশা করেন। গল্পকার কুণালকান্তি দে এই সম্মান পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, কুম্ভকার, চর্মকার এর মওতো তিনি একজন গল্পকার।জঙ্গিপুর বাসী তাঁকে সারাজীবন গল্প লেখার অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছে।
সাহিত্যিক কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন,”সাহিত্যিক রা মানুষ কে এক করার জন্যই কলম ধরেন।আজ দেখা যায় সমাজের অনেক দিক থেকে আঘাত পেয়ে অনেকে সাহিত্য কর্ম ছেড়ে দেয়।হতাশ হলে চলবে না। তাদেরকেই সমাজকে পথ দেখাতে হবে।“ তথ্য চিত্র নির্মাতা ধূলিয়ানের ভূমিপুত্র, নবান্নের আধিকারিক সুমিত ঘোষ মহাশয় বলেন,”তিনি কোলকাতা ইডেন গার্ডেন নিয়ে যে তথ্যচিত্র বানিয়েছেন সেটি মহারাজ সৌরভ গাঙ্গুলি বিশেষ পছন্দ করেছেন”।ভবিষ্যতে জঙ্গিপুর ও কলকাতার যোগসূত্র গড়তে তিনি তার ইতিহাস নিয়ে যে কাজ করে চলেছেতাতে সকলকে অংশগ্রহণের আহব্বান জানান। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আহবায়ক গোলাম কাদের ও সোমনাথ কর।এছাড়াও সঞ্চালনায় তাদেরকে সহযোগিতা করেন সংগ্রাম সিনহা, গুলজার হোসেন, ডক্টর সংঘামিত্রা গোস্বামী, আনুয়ার হোসেন, তনুশ্রী গোস্বামী অভিজিৎ দাস প্রমুখ।







