01/12/2022 : 6:42 PM
BREAKING NEWS
রবিবারের আড্ডাসাহিত্য

রবিবারের আড্ডাঃ জিরো পয়েন্ট সাহিত্য আড্ডাঃ ৮ মে ২০২২

জিরো পয়েন্ট সাহিত্য আড্ডা

রবিবারের আড্ডা

————–৮ মে ২০২২ রবিবার—————


|| সাহিত্যাঞ্জলি ||
সীমা আছে এ কথা যেমন নিশ্চিত, অসীম আছেন এ কথা তেমনি সত্য। আমরা উভয়কে যখন বিচ্ছিন্ন করিয়া দেখি তখনি আমরা মায়ার ফাঁদে পড়ি। তখনি আমরা এমন একটা ভুল করিয়া বসি যে, আপনার সীমাকে লঙ্ঘন করিলেই বুঝি আমরা অসীমকে পাইব – যেন আত্মহত্যা করিলেই অমরজীবন পাওয়া যায়। যেন আমি না হইয়া আর-কিছু হইলেই আমি ধন্য হইব। কিন্তু, আমি হওয়াও যা আর-কিছু হওয়া যে তাহাই, সে কথা মনে থাকে না। আমার এই আমির মধ্যে যদি ব্যর্থতা থাকে তবে অন্য কোনো আমিত্ব লাভ করিয়া তাহা হইতে নিষ্কৃতি পাইব না। আমার ঘটের মধ্যে ছিদ্র থাকাতে যদি জল বাহির হইয়া যায়, তবে সে জলের দোষ নহে।
দুধ ঢালিলেও সেই দশা হইবে, এবং মধু ঢালিলেও তথৈবচ।”
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

ধারাবাহিকঃ পর্ব ১

রবি ঠাকুর প্রসঙ্গে

✒  শেখ জানে আলম

রবি ঠাকুররা পীড়ালি বামুন ছিলেন মানে জাতিচ্যূত । বিয়ে হওয়া নিয়েও তাদের কিছু সমস্যা হত তখন । তখন যশোর একটি পীড়ালি কেন্দ্র ছিল । ওখান থেকে মেয়ে তুলে এনে ছেলের বিয়ে হত । ঠাকুর বাড়ীর খুবই কম বেতনে কাজ করা একজন সেরেস্তাদারের মেয়ের সঙ্গে রবি ঠাকুরের বিয়ে হয় । শশুরের নাম বেণীমাধব রায় চোধুরী । খুবই দুস্থ ব্যক্তি । মেয়েকে যথারীতি ঠাকুর বাড়িতে তুলে এনে বিয়ে দেওয়া হয়। রবি ঠাকুরের বিয়ে হয় ১৮৮৩ সালের ৯ই ডিসেম্বর । তখন রবির বয়স ২২ বছর ৭ মাস । আর কনের বয়স ১১ বছর । দুঃখের বিষয় – রবি ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী মারা যান মাত্র ২৯ বছর বয়সে ।তখন কার দিনে নাম করা এ্যালোপ্যাখ ও হোমিওপ্যাথ ডাক্তার বাবুরা তার চিকিৎসা করেন ।

মৃত্যুর পর অনেক দিন পর জানা যায় যে যে তার ( অ্যাপেন্ডিক্স) অপেন্ডিসাইটস হয়েছিল। তখন এই রোগ বিষয়ে তেমন কিছু জানা ছিল না । এই রোগের অপারেশন প্রণালী ও জানা ছিল না ।মাত্র ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবন রবিঠাকুরের । এই সময় পর্বে তাদের ৫ টি সন্তান জন্ম গ্রহন করে । ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে ।

প্রথম মেয়ে বেলা । বিবাহের কয়েক বছর পর বেলা যক্ষা রোগে মারা যায় মাত্র ৩১ বছর ৬ মাস বয়সে। দ্বিতীয় পুত্র –রথীন্দ্রনাথ । যিনি পিতার পাশে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় ছিলেন অতন্দ্র প্রহরি। কবি বলতেন রথীর আমি বিধবা বিবাহ দেব । রথীর সঙ্গে একজন বিধবার বিবাহ দিয়েও ছিলেন । রথীন্দ্রনাথ ১৪ ই মে ১৯৫১ থেকে ২২ শে আগস্ট ১৯৫৩ পর্যন্ত বিশ্বভারতী র উপাচার্য ছিলেন । ১৯৬১ সালে ৭২ বছর বয়সে দেরদুনে তিনি মারা যান । তৃতীয় -কন্যা রেণুকা । জন্ম হয় ১৮৯১ সালে । মারা যায় যক্ষা রোগে ১৯০৩ সালে ১২ বছর বয়সে । চতুর্থ কন্যা – মীরা জন্ম ১৮৯৪ সালে । মীরা দেবী বিবাহের পর জার্মানিতে থাকা কালীন তার একমাত্র পুত্র ২০ বছর বয়সে মারা যায় যক্ষা রোগে। রবি ঠাকুরের কাছে একমাত্র নাতির মৃত্যু অসহ্য হয় । পঞ্চম সর্বশেষ পুত্র শমীমন্দ্র নাথ, রবি ঠাকুরের  আদরের শমী ১৯০৭ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে কলেরা রোগে মারা যায়।

১৮৬৩ সালে পিতা দেবেন ঠাকুর শান্তিনিকেতনে রায় পুরের জমিদারের কাছ ১০ বিঘা জমি কেনেন ।
এই জমিতে তিনি নিরিবিলিতে সাধন ভজন করার জন্য আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন । গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন আশ্রমের জন্য ট্রাস্টি । ১৯০১ সালে রবি ঠাকুর ওই আশ্রমে শিশুদের জন্য একটি স্কুল গড়েন । মাত্র ৫ জন ছাত্র নিয়ে শুরু হয়
স্কুল । ১৯২১ সালে বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠা হয় । এই বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য রবি ঠাকুরকে বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয় । স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর সমস্ত গহনা বিক্রি করে সেই টাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য লাগানো হয় । এ ছাড়া পুরীতে রবি ঠাকুর তার বাংলো বিক্রি করেন । পিতার শান্তিনিকেতনের ট্রাস্ট থেকে বছরে তখন ১৮০০ টাকা আয় খুব সহায় হয় । বিভিন্ন দেশের বহু গুণীজন এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অর্থ সাহায্য করেন ।

এই বিশ্বভারতী গড়ে তোলার কাজে অর্থ সাহায্যের জন্য কবি পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরে বেরিয়ে ছেন । ইংল্যান্ডের পিয়ার্সন এবং সি অফঅন্দ্রুজ সাহেব তাদের সর্বস্ব বিশ্বভারতীতে দান করে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হয়ে পড়েন । এছাড়া তখনকার সময়ে ভারতের সমস্ত রাজপরিবার গুলি এবং দেশ দরদী উদ্যোগপতি টাটারাও প্রচুর অর্থ সাহায্য করেন । ১৯১৩ সালে প্রাপ্ত কবি তার নোবেল প্রাইজের (১১৬২৬৯ টাকা ) বেশিরভাগ টাকাই এই প্রতিষ্ঠানে দেন । রবীন্দ্রনাথ আমৃত্যু বিশ্বভারতী র চ্যান্সেলার ছিলেন । ১৯৪১ সালে কবির মৃত্যু পর যথাক্রমে অবন ঠাকুর ও সরোজিনী নাইডু চ্যান্সেলারের দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৫১ সালে বিশ্বভারতীকেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায় । (চলবে)

 

কবিতা

দুটি পাখি

✒ অর্পিতা চ্যাটার্জী

পায়ের শিকল খাঁচার পাখির
যেদিন হল বিকাল,
সেদিন পাখি বাইরে এল
উড়তে হল সকাল।
ডানা ছিল ভারী যে তার
পায়ে লাগল টান,
কিন্তু সে টান আলগা করতে
চেষ্টা আপ্রাণ।
এখন সে উড়তে পারে
বনের পাখির সাথে,
নামতে পারে যেথায় খুশি
মাঠে কিংবা ঘাটে।
গাছের উপর চড়তে পারে
পাড়তে পারে ফল,
বনের পাখিকে বলতে পারে
গান শেখাবি চল।

প্রবন্ধ

জ্যোতিষশাস্ত্র অবিজ্ঞানের আর এক নাম

✒  পার্থসারথি দাস

জ্যোতিষশাস্ত্রের আলোচনায় আমাদের প্রথমেই যেটা জানতে হবে, সেটা হল, জ্যোতিষশাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। জ্যোতির্বিজ্ঞান হল বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তু, তার অবস্থান এবং তাদের নিয়মকানুনকে বোঝার জন্য যে বিজ্ঞান। অন্যদিকে জ্যোতিষশাস্ত্র যেখানে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কিত একেবারেই প্রাচীন ধারণার বশবর্তী হয়ে সেই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে থাকা লক্ষকোটি নক্ষত্র এবং গ্রহের মধ্যে মাত্র কতিপয়ের মানুষের জীবন এবং ভাগ্যের উপর প্রভাব সম্পর্কিত কাল্পনিক কিছু তত্ত্ব। আসুন, জ্যোতিষের মূল সূত্রগুলি বিশ্লেষণ করে দেখা যাক এর সারবত্তা কতটা, আর কতটাই বা বৈজ্ঞানিক এর ভিত্তি-

১। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে পৃথিবী মহাবিশ্বের কেন্দ্রে। কিন্তু আজকাল বাচ্চারাও জানে, আসলে মহাবিশ্ব দূরের কথা সৌরমণ্ডলেরও কেন্দ্রে নেই পৃথিবী। সৌরমন্ডলের কেন্দ্রে আছে মাঝারি মাপের একটি তারা, যার নাম সূর্য। তার চারিদিকে ঘুরে চলা অতি সাধারণ একটি গ্রহ পৃথিবী।
২। কিন্তু এই জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্য একটি নক্ষত্র নয়, ‘গ্রহ’! যদিও আমরা সবাই জানি এটি একটি নক্ষত্র।
৩। অবাককান্ড, জ্যোতিষশাস্ত্র মতে চন্দ্রও একটি ‘গ্রহ’। আসলে যদিও এটি পৃথিবীর উপগ্রহ।
৪। অথচ জ্যোতিষশাস্ত্রে ইউরেনাস, নেপচুন এবং প্লুটো গ্রহের কোন উল্লেখ নেই। কিন্তু এই তিনটি গ্রহের অস্তিত্বই বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত এবং তা আমাদের সৌরমন্ডলের মধ্যেই উপস্থিত।


৫। অন্য দিকে রাহু নামে কোন গ্রহ না থাকলেও গ্রহণ কালীন সময়ে যথাক্রমে সূর্য গ্রহনের সময় চন্দ্রের ও চন্দ্র গ্রহনের সময় পৃথিবীর ছায়াকে অজ্ঞতার বশে জ্যোতিষশাস্ত্রকাররা গ্রহ বলে ধরে নিত। গ্রহণের কার্যকারণ বিজ্ঞান বহুযুগ আগেই সম্পূর্ণ উদ্ঘাটিত করা সত্বেও সেই মিথ্যা গোঁজামিল জ্যোতিষীরা কিন্তু আজও চালিয়ে যাচ্ছেন।
৬। জ্যোতিষশাস্ত্রের আর একটি ‘গ্রহ’ কেতু, যার কোন অস্তিত্ব নেই। এখানেও সেই ধূমকেতুকে গ্রহ বলে ভাবার ভুল। আর হ্যাঁ ধূমকেতু কিন্তু একটি নয়, অনেক। এর মধ্যে কোনটির প্রভাব তাঁরা বিচার করেন?
৭। মহাকাশে কোটি কোটি গ্রহ নক্ষত্রের মধ্যে জ্যোতীষে প্রভাব বিচার করা হয় মাত্র গুটি কয়েকের। বাকিদের কি তবে প্রভাব নেই? কেন নেই? আরও আশ্চর্যের বিষয় ভাগ্য বিচারের এই বুজরুকি তত্ত্বে সুপারনোভার মত সুবিশাল তারকা বা ব্ল্যাকহোলের মত মহাজাগতিক বিস্ময় বিলকুল অনুপস্থিত। কোয়াসার আর পালসারদের কথা না হয় বাদই দিলাম। তাছাড়া বর্তমানে আকাশের তৃতীয় বৃহত্তম উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের বা অসংখ্য কৃত্রিম উপগ্রহের প্রভাবের উল্লেখও এই শাস্ত্রে নেই।


৮। জ্যোতিষশাস্ত্রে যে রাশি চক্র গুলিতে অবস্থিত নক্ষত্রগুলির কথা বলা হয়। তার প্রতিটিই বহু কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যাদের থেকে আসা আলোক বা অন্য কোন বিকিরণের প্রভাব মনুষ্য শরীরে শূন্য তা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত, ভাগ্যের উপর প্রভাব তো দূর অস্ত। তবু জন্মের সময় এদের অবস্থান অনুযায়ীই মানুষের ভাগ্য নির্ণয় করেন জ্যোতিষীরা। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয়, এদের প্রভাব আছে, জাতকের জন্মের সময় যে নক্ষত্রটির প্রভাব গণনা করা হয় বহুকোটি কলোমিটার দূরের সেই নক্ষত্র থেকে আলো বা বিকিরণ পৃথিবীতে এসে পৌঁছবে চার পাঁচ বছর পর। সুতরাং তার অবস্থান ও প্রভাব জন্ম সময় ধরে ‘গণনা’ অর্থহীন । আবার ‘জন্ম সময়’ বিভিন্ন জন বিভিন্ন ভাবে ধরেন। কেউ ভূমিষ্ঠ হবার সময়, কেউ বা নাড়ী কাটার সময় জন্মের সময় হিসাবে ধরেন। কিন্তু জন্মের প্রকৃত সময় কি আসলে শুক্রাণুর সাথে ডিম্বানুর নিষেকের সময়টা নয়, যেটা আসলে ভূমিষ্ঠ হবার প্রায় ২৮০ দিন আগে ঘটে এবং যার ফলে মানব ভ্রূণ সৃষ্টি হয়? কিন্তু এসব কথা এড়িয়ে গিয়ে দিব্যি গোঁজামিল দিয়ে চালিয়ে জান জ্যোতিষী আর তার স্যাঙাতরা। আর যদিও বা ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়টাকেই “জন্মের সময়” হিসাবে ধরে নিই, সেই সময় তো হাসপাতালের ডাক্তারবাবু যে সময়টা হাসপাতালের রেকর্ডে লিখে রাখেন সেটাই ধরা হয়। বাস্তবের সঙ্গে সেই সময়টা হুবহু না মেলার সম্ভাবনাই বেশি এবং প্রায়শঃই মেলে না।
৯। জ্যোতিষশাস্ত্রের বিভিন্ন রোগ বা সমস্যার নিরাময়কারী হিসাবে যে ‘গ্রহরত্ন’ গুলি দেওয়া হয় সেগুলি প্রকৃতপক্ষে কিছু রাসায়নিক পদার্থ ছাড়া আর কিছু নয়। যেমন হীরা হল কার্বন, পান্না বেরিলিয়াম অ্যালুমিনিয়াম সিলিকেট, বৈদূর্য মণি বা ক্যাটস আই হল বেরিলিয়াম আর অ্যালুমিনিয়াম-এর মিশ্র অক্সাইড। চুনি অ নীলা হচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড, এদের রঙের হেরফের হয় সামান্য লোহা, ক্রোমিয়াম অক্সাইড বা টাইটানিয়ামের জন্য। এগুলি পরিধান করার ফলে রক্তে এদের কোন উপস্থিতি বা এদের কোন রোগ নিরাময় ক্ষমতার কথা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণাতেও পাওয়া যায়নি।


১০। জ্যোতিষীরা কসমিক রশ্মি ইত্যাদির কথা বলে অনেক সময় একটা ছদ্ম বিজ্ঞানের মোড়ক আমদানি করতে চান। কিন্তু কসমিক রে পৃথিবীর চৌম্বক বেল্টের প্রাচীর পেরিয়ে পৃথিবীতে আসতে পারে না। আসতে পারে না বলেই পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি হওয়া সম্ভব হয়েছে। যেটুকু কসমিক রশ্মি আসে তা অত্যন্ত ক্ষীন ও তা মানব শরীরকে বা জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে না। আগে গ্রহরত্ন নামক যে রাসায়নিক পদার্থ গুলোর কথা বলা হয়েছে, আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় সেগুলির অ্যাটমিক স্ট্রাকচার জানা যায় এবং রশ্মি, আলো তাপ ইতাদি শোষণ বা বিকিরণ ক্ষমতা মাপা যায় । পরীক্ষায় দেখা গেছে এইসব গ্রহরত্নের যা রশ্মি, আলো, তাপ শোষণ বিকিরণ ক্ষমতা তাতে তাতে শরীরের সামান্য তাপমাত্রাও পরিবর্তিত করা সম্ভব নয়, রোগ নিরাময় বা তার থেকেও হাস্যকর দাবী ভাগ্য পরিবর্তন তো দূরের কথা। কিন্তু দুঃখের কথা এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী কায়েমি চক্র, মানুষকে স্রেফ ধাপ্পা দিয়ে কোটি কোটি টাকার প্রতারণামূলক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বর্তমানে চালু হয়েছে কিছু অর্ধশিক্ষিত আধুনিক মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য এই প্রতারণাকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য সিউডো সায়েন্স বা ছদ্ম বিজ্ঞানের ব্যবহার। আর বোলচালে কিছু জার্গনের মিশ্রণ। তাতেই ক্লায়েন্ট কুপোকাৎ আর প্রতারকের বাজীমাৎ। মানুষের নিদারুণ অজ্ঞতাকে পুঁজি করে কী দারুণ চলছে জ্যোতিষ নামক এদের জালিয়াতির ব্যবসা।

 

গল্প

ঘুম ভাঙানো পাখি……

✒ আঞ্জু মনোয়ারা আনসারী

“কে মোরে ফেরাবে অনাদরে/কে মোরে ডাকিবে কাছে/কাহারো প্রেমের বেদনায় আমারও মূল্য আছে/ওগো কে মোরে ডাকিবে কাছে/হে নিরন্তর শংসয়ে আর পারিনা জুঝিতে/আমি তোমারেই শুধু পেরেছি বুঝিতে”

তবুও আমরা ক’জন আর ক’জনকে বুঝতে পারি??
সত্যিই কবিগুরুর এই গানের কথাগুলো আজ রক্তে মিশে গেছে। যেন প্রাণে অক্সিজেন সমান যখন কোন মানুষ বড্ড– বড্ড একা হয়ে যায়। হয়তো তুমি বলতেই পারো– একা কেন, তোমার তো চারপাশ জুড়ে এতো এতো মানুষ। তোমার আত্মীয়, সুজন-বন্ধু, এমনকি কতো কতো কাছের জন। আর আমি…….
জানো, প্রথম প্রথম আমিও… কিন্তু এখন, কেউ– কেউ….. ঠিক তোমার মত করে বোঝে না। বুঝবে না এটাই তো স্বাভাবিক। তবুও মনে হয় কেউ অন্ততঃপক্ষে কেউ এতোটুকুও বুঝুক….।

দেখতে দেখতে কতগুলো বসন্ত এলো। কৃষ্ণচূড়া-পলাশের শাখায় শাখায় আগুন ধরাল। আবার নীরবে ফিরেও গেল।
এখন আর, এসব ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে মুখরিত হয়ে আগমনী সুর লাগে না। কিন্তু এর মাঝে যখন মরশুমি বর্ষা আসে। ঘনঘটায় বাদল ঝরে। গাছেদের পাতায় পাতায় সবুজে সবুজে সবুজময় হয়ে ওঠে, তখন, হ্যাঁ, তখন কোথাও যেন একটুকু মনখারাপের টের পাই। মনে হয় প্রকৃতি পাতাঝরা সময়ের সমান্তরালে রং হারায় আবার অনায়াসে কেমন নতুনভাবে রং পায়।
তাহলে মানুষের মন কেন….???

ইচ্ছা হোক বা অনিচ্ছায় একটা মানুষ প্রতিটি মুহূর্ত। না না মুহূর্ত বললে কম বলা হয়। প্রতিটি মুহূর্ত-কনায় একটু একটু তিল তিল করে ক্ষয়ছে। অবশ্যই নীরবতায় ভিতর ভিতর। আমরা কেউ জানিনা। যেমন, আমরা কেউ জানি না, জানার চেষ্টাও করি না কেমন করে একটা চাঁদ ক্ষয়ছে সহিষ্ণুতার অন্তরালে। কেমন করে অমানিশার গভীরে কি শৈল্পিক নিপুনতায় নিজেকে মেলে, আবার কতোটা কোরোক ছাড়ানো যন্ত্রনায় একঝাঁক শিউলি রাঙামাটির ভোর-ছুঁয়ে নিজের অস্তিত্ব মাটির বুকে বিছিয়ে দিচ্ছে। আমরা এও দেখিনা একটি মানুষের কতোটা একাকীত্বের অভিমানে অভিমানী মনের মুহূর্ত গুলো খুন হচ্ছে। অথচ, এই চাঁদ, ফুল এবং আস্ত, আস্ত একটা মানুষের শরীর-মন-হৃদয় নিয়ে কতো, কতো অক্ষরের বর্ণমালায় গল্প কবিতার শরীর গাঁথি, নিজস্ব লীলায়। তারপর, বাঃ বাঃ কুড়ায় পাঠক মহলে। এক আধটা সম্মাননা যে পাই না, এমনও নয়। কিন্তু কখনও কি একটুকু বুঝতে চেষ্টা করেছি? কিংবা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে মনে হয়েছে? দেখি একলা আকাশ পিঠে চাঁদ তুমি…?? রাতের গহ্বরে এক পলক কেমন করে শিউলি পাপড়ি খুলছে?? অথবা, মনের পিঠে মন ছুঁয়ে সেই, সেই মানুষের, সেই মনগুলো…???
যা হয়তো কারো কারো একটুকু পরশে
একটা মরুভূমির বুকে একটুকরো মরুদ্যান….
ক্ষতি কি??? যা আগামীর পথে পথ হয়ে উঠুক অনাবিল ভালোবাসার, প্রেমের অথবা মানবতার….!!!

 

কবিতা

ভরা বাদর মাস

✒ সুদেষ্ণা ব্যানার্জী

ভরা বাদরদিন, ভেজে কেউ কেউ
অসময়ে এসে রেখে যায় স্মৃতিচিহ্ন
কে বা কাকে কতটুকু চিনল আসলে!
জলতরঙ্গ বেজে ওঠে রক্ত মাংসের কোরকে
জলের উপত্যকায় নতজানু বাতাসের মতো অপেক্ষা করি
ফেরাবে? ভিটেমাটি ফতুর করে ফেরাবে?
সাধ হয় দেশলাই কাঠি হই,
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে একটু তছনছ হই…

অসময়ে খেয়ালি পাতায় মেঘ করে আসে
জাহাজ ফিরে চলে পুরোনো ঘাঁটিতে
ছোঁবার আগেই অস্পর্শতায় ফিরে যায় বাতাস
ফিরে যাওয়া দেখতে দেখতে পাহাড় হয়ে যাই
পাহাড়, পাহাড়, নীরব জমকালো এক পাহাড়।

ধারাবাহিকঃ পর্ব -১

জিরো পয়েন্ট – ফিরে দেখা

✒ এম. কে. হিমু

জিরো পয়েন্ট। জ্ঞান হওয়ার পর যখন নামটা শুনি প্রথমেই এই মনের মধ্যে এই প্রশ্ন চিহ্ন জেগে ওঠে এই নাম কেন? অনেকবার এই প্রশ্ন আমার স্রষ্টা ও জিরো পয়েন্ট-এর স্রষ্টাকে করার পর যে উত্তর পেয়েছি সেটা হলো – “নিজে ভেবে দেখো”। আজ ৩৩ বছর পর সেই প্রশ্নের যে উত্তর পেয়েছি তা দিয়েই শুরু করবো “জিরো পয়েন্ট – ফিরে দেখা”। ধারবাহিক ভাবে জিরো পয়েন্ট এর ই-জিরো পয়েন্ট ওয়েব পোর্টালের সাপ্তাহিক ই-ম্যাগাজিন রবিবারের আড্ডা বিভাগে।

জিরো পয়েন্ট একটি পাক্ষিক সংবাদ পত্র রুপে আত্ম প্রকাশ করে ২০ অগাষ্ট ১৯৮৮। তখন লেটার প্রেসের যুগ। নিউজ প্রিন্ট পেপারে ছাপা হতো সংবাদপত্রটি। জিরো পয়েন্ট এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সেখ আনসার আলি সম্পাদনায় মেমারি তথা পূর্ব বর্ধমানের পাক্ষিক সংবাদ পত্রের মধ্যে অন্যতম একটি নাম জিরো পয়েন্ট। সকলের মনেও সেই এক প্রশ্ন বাংলা সংবাদপত্রের নাম ইংরাজী কেন আর জিরো পয়েন্ট-ই কেন। যাইহোক আমার যেটা মনে হয়েছে – একটি সাদা কাগজে যখন কিছু লিখি আমরা তখন প্রমমে পেনের নিবটি কাগজকে স্পর্শ করে সেই মুহুর্তেই সৃষ্টি হয় জিরো পয়েন্ট – যা থেকে শুরু হয় অজস্র শব্দের বুনন। সেই শব্দের বুনন কখনও বা সংবাদ কখনও সাহিত্যের রুপ ধারণ করে। আর একটা ভাবনা মাথায় এসেছে যে, সংবাদের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার আর এক নাম জিরো পয়েন্ট – যে শাসক বা বিরোধীর নয় অধিকারের পক্ষে।

জিরো পয়েন্ট এর স্রষ্টা আজ এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন কিম্তু রেখে গেছেন তার চিন্তন। যা সময়ের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলবে। জিরো পয়েন্ট শুধু পাক্ষিক সংবাদ পত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে তার প্রসার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশন জগতে পা রেখেছে স্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সেখ আনসার আলির হাত ধরেই। বর্তমানে ওয়েব পোর্টাল এক নতুন সংযোজন। (চলবে)

 

হিজিবিজি

দৃষ্টিভ্রম

✒ আনন্দ দে

আমরা অনেক সময় কোন কিছু দেখে চিন্তা করি একটা আবার কিছুক্ষন পরে ভাল করে পর্যবেক্ষন করে দেখি আরেকটা। মানে আমি বুঝাতে চাচ্ছি দৃষ্টিভ্রম। আমরা বইপত্রে পড়েছি যে, কোন একদল যাত্রী মরুভূমিতে পথ চলতে চলতে জলের জন্য কাতর হয়ে পড়েছে। কারো কাছে একটুও জল নেই যে, পান করে তৃষ্ণা মেটাবে। পথ চলতে চলতে যাত্রীদের কেউ একজন দেখলো কিছুদুরে জলাশয় রয়েছে। কিন্তু ওখানে যাওয়ার পর দেখলো যে জল নেই। তখন তারা গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করে বুঝলো যে, এগুলো আসলে মরিচিকা বা দৃষ্টিভ্রম (IILUSION)। এখানে আসলে সূর্যের আলো বালিতে পড়ে এক ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করে যা জলের মত দেখা যায়। আমি নিজেও একদিন বোকা বনেছিলাম। হয়েছে কি আমি একদিন দুপুরে বাসে চড়ার সময় দেখলাম সামনে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পিচডালা রাস্তায় বৃষ্টির জল জমে আছে কিন্তু বাসটা ঐখানে যাওয়ার পর দেখি নাই। আবার কিছু দূরে একই রকম দেখলাম। যাওয়ার পর দেখি নাই। এই ধরনের কিছু ছবি আজ হিজিবিজি বিভাগে দেওয়া হলো

রবিবারের আড্ডায় লেখা পাঠানোর নিয়মঃ
১) জিরো পয়েন্ট রবিবারের আড্ডা বিভাগে আপনার লেখা প্রকাশের জন্য ইমেইল করুন
zeropointpublication@gmail.com
(সাবজেক্ট এ অবশ্যই রবিবারের আড্ডা উল্লেখ করবেন)
২) লেখা পাঠানের পর ২ মাস অপেক্ষা করবেন
৩) আপনার প্রেরিত লেখাটি মনোনীত হলে ২ মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে এই বিভাগে
৪) একবার লেখা পাঠানোর পর এই বিভাগে আবার ২ মাস পর লেখা পাঠাবেন
৫ ) প্রত্যেকের লেখা পড়ুন, কমেন্ট বক্সে মতামত দিন
৬) অবশ্যই ওয়েবলিঙ্ক আপনার সোস্যাল নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন।

Related posts

দৈনিক কবিতাঃ তোমার বিরহে

E Zero Point

ফুটপাতের পানের দোকানে জন্ম নিলো একডজন উপন্যাস

E Zero Point

দৈনিক কবিতাঃ এমনি করেই

E Zero Point

মতামত দিন