জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, আনোয়ার আলি, মেমারি, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ :
রাজ্যের সবাই বাড়ি পাবেন। সবারই মাথার উপরে ছাদ থাকবে। কেউ গৃহহীন থাকবেন না। এই লক্ষ্য নিয়ে একাধিক প্রকল্প চালু করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। পশ্চিমবঙ্গেও এই লক্ষ্য নিয়েই অনেক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির অন্যতম হল বাংলা আবাস যোজনা। কিন্তু নানাবিধ কারণে বাংলার মানুষ কেন্দ্রের বরাদ্দ টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলো।
গত লোকসভা নির্বাচনে ভোট প্রচারের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বিভিন্ন জনসভার ভাষণে বলেছিলেন যে, কেন্দ্র টাকা দেয়নি। অতএব, বাংলার গ্রামীণ এলাকায় গরিব মানুষের বাড়ি তৈরির প্রকল্পে ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ নামও ব্যবহার করবে না রাজ্য সরকার। পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের নাম দিয়েছিলেন ‘বাংলার বাড়ি’। যার সম্পূর্ণ অর্থ রাজ্য সরকার থেকে বরাদ্দ হবে।
সংবাদ সূত্রে জানা যায় ২০২২ সালে কেন্দ্র সরকারের প্রকল্প আবাস প্লাসের যোগ্য প্রাপকদের টাকা দেয়নি কেন্দ্র সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো বাংলার বাড়ি (গ্রামীন) প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ লক্ষ ৯৩ হাজার ৮৯৯ জনকে পাকা বাড়ি তৈরি করার জন্য ৬ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে রাজ্য সরকার থেকে। প্রতিটি পাকা বাড়ির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার, দ্বিতীয় কিস্তিতে ৪০ হাজার এবং তৃতীয় ও শেষ কিস্তিতে ২০ হাজার টাকা করে পাওয়া যাবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় ৭৯ হাজার ৩২০ জনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪৭৬ কোটি টাকা ও মেমারি ১ ব্লকের জন্য ৪৫০০ জনের পাকা বাড়ি তৈরি করার জন্য রাজ্য সরকার ২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন।
জানা যাচ্ছে ব্লক স্তরে সার্ভে করার পর যোগ্য প্রাপকেরাই এই পাকা বাড়ি পাচ্ছেন। ২০২২ সালের আবাস প্লাস তালিকার যোগ্য প্রাপকরা ছাড়াও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারাও রয়েছে বাংলার বাড়ি (গ্রামীন) প্রকল্পের তালিকায়। এছাড়াও সরাসরি ফোনের মাধ্যমে দিদিকে বলো তে আবেদন যারা করেছিলেন তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সূত্র মারফৎ এও জানা যায় যে, পূর্ব বর্ধমান জেলার অপেক্ষামান তালিকায় এখনও ৫৭ হাজার যোগ্য প্রাপকের নাম আছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা শাসকের পক্ষ থেকে জানা যায়, বাংলার বাড়ি (গ্রামীন) প্রকল্পের বাড়ি তৈরি করার জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে কোন অর্থ প্রদান করতে হয় না। এই মর্মে যদি কেউ আপানর কাছে অর্থ দাবী করে তাহলে জেলাশাসক দপ্তর, মহাকুমা শাসক দপ্তর, ব্লক সমষ্টি উন্নয়ণ আধিকারিকের দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।





