জিরো পয়েন্ট সাহিত্য আড্ডা
রবিবারের আড্ডা
————–২ মার্চ ২০২৫ রবিবার—————
|| ফিরে দেখা ||
“যখন ফুল ফোটে তখন
মৌমাছিরা আপন থেকেই চলে আসে
ঠিক তেমনই যখন আমরা প্রসিদ্ধ হয়ে যাই
তখন সমস্ত মানুষ নিজে থেকেই
আমাদের গুণগান করতে শুরু করে দেয়।”
– শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব
স্মৃতিকথা
কবিতার টানে এক রোববার
অরূপ কুমার ঘোষ
গত ১০ ফাল্গুন, ১৪৩১ ,রোববার (২৩/০২/২০২৫) কবিতার টানে ,বলা ভালো এই সময়ের প্রবাদ হয়ে যাওয়া প্রেম-উচ্চারণ কবিতা ‘মনে থাকবে’- এর স্রষ্টা কবি আরণ্যক বসু মহাশয় কে চাক্ষুষ করবো বলে আমরা (আমি আর বংশী দা) দুই অনামী কবি (জানিনা ,এই পদবাচ্য আমাদের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত কিনা ?) পাড়ি দিয়েছিলাম পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি শহরে । মনের মধ্যে একটা উত্তেজনা ছিলই । কিছুটা সংশয় -ও ছিল , কবি আরণ্যক বসু-র সাক্ষাৎ হবে তো ?
এই সব কিছু নিয়েই বাড়ি থেকে পা বাড়ালাম সকাল ৮-০০টায় । বাসে চেপে মেমারি -১ ব্লক অফিসের সেমিনার হলে যখন পৌঁছলাম ঘড়ির কাঁটা ১০-০০ টা পেরিয়ে গেছে । ‘জিরো পয়েন্ট সাহিত্য আড্ডা ’ আয়োজিত ‘জিরো পয়েন্ট কবিতা উৎসব -২০২৫’ ততক্ষণে শুরুও হয়ে গেছে । মঞ্চ আসনে উপস্থিত স্বয়ং কবি আরণ্যক বসু । আমরা আমাদের নাম নথিভুক্ত করে সভাকক্ষে ঢুকলাম । আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল খ্যাতনামা ও অনামী কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ।
দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । আমরা প্রথম পর্বের কবিতা পাঠ পর্যন্ত ছিলাম । যাইহোক ,সভাকক্ষে ঢুকেই দেখি মঞ্চে আসীন কবিদের সম্মাননা জ্ঞাপন চলছে । কখন আমাদের ডাক আসবে ,এই অপেক্ষায় ঘণ্টা খানেক কাটলো । বসে বসে শুনছি বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কবিদের কবিতা -পাঠ । মনে হচ্ছিল, কবির আক্ষেপ কি সত্যি নয় –“আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা !”
বাংলার আনাচে -কানাচে এই যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কবিরা ‘আপন মনের মাধুরী’ মিশিয়ে যে সৃজন পাঠ করছেন , তাতে কি মনে হয় এমন দিন কখনও আসবে ,যেদিন আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসবে না !!
নানান কবির কলমে বর্তমান সময়ের বাংলাদেশের অস্থিরতা ধরা পড়ল ! এই বাংলাদেশের বুকেই কি একদিন সালাম -রফিক-বরকত-জব্বার উর্দু ভাষার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল ? প্রাণের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল নিজের মায়ের ভাষায় কথা বলার -কথা লেখার অধিকার ?
আমরা ইতিমধ্যে হারালাম আর এক আবেগী মানুষ প্রতুল বাবুকে । সেই কথাও উঠে এলো কোন কোন কবির কলমে আর কণ্ঠে ।
আর ছিল অবশ্যই কবি আরণ্যক বসুর ভরাট কণ্ঠের উচ্চারণ । ওনাকে দেখে আর শুনে ভাবছিলাম –কবিরা কি ভালো আবৃত্তিকার -ও হন ? “শ্রেষ্ঠ কিশোর কবিতা” থেকে ‘মরণের চোখে জল’ কবিতা-র যে অনবদ্য উচ্চারণ , তা সভাকক্ষে উপস্থিত সকলকে চুপ থাকতে বাধ্য করেছিল । অবাক হচ্ছিলাম এটা ভেবে যে ,কবি শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই শুধুমাত্র আবেগের টানে এখানে এসেছেন । এখান (মেমারি) থেকে ফিরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হবেন । তবে এ প্রত্যয় -ও শুনলাম কবির কণ্ঠে — “আমি আবার আসব এই মেমারিতে । ” কতখানি প্রাণের আবেগ থাকলে এমন কথা বলতে পারেন প্রেমিক -মন , বলা ভালো একজন অক্ষর -প্রেমিক আর কি-ই বা চায় এই প্রত্যয় টুকু ছাড়া ?
কবি বংশীধর ঘোষ -এর কলমে ধরা ছিল , বাংলা ভাষার প্রতি প্রেম –“আমার কলম সাহসে রাত জাগে !” আর-ও অনেক রাত জাগুক ওই কলম , –এটুকুই চাইবো ।
এবার আসি , এই অধমের কথা-য় । প্রিয় সুমন দা -কে খুব মনে পড়ছিল , ঠিক তখনই মুঠোফোনে সুমন দা-র ‘আগত কল ’ । এমনটা কেন হয় জানিনা, না -থেকেও আমার সমস্তটা জুড়ে তুমি ছিলে । সেজন্যই তো করতে পেরেছি সাহসী উচ্চারণ — আয়োজক সংস্থার নাম জিরো পয়েন্ট কেন ? শূন্য বিন্দু হলে কী অসুবিধা হতো ? শেকসপীয়র সাহেব, নামে কিছু এসে যায় কিনা জানিনা , তবে সব নাম কান নিতে পারে না , মনের কথা তো ছেড়েই দিলাম !
যাইহোক, সবশেষে এমন এক মহতী আয়োজনের জন্য আয়োজক সংস্থার প্রশংসা যতই করি ,তা কম-ই হবে । এমন আন্তরিক সম্মাননায় ,এমন ভালোবাসা -র ডাকে আশা করি আবারও সাড়া দেবো । ততদিন ভালো থাকুন সকলে । শ্রীবৃদ্ধি হোক “জিরো পয়েন্ট সাহিত্য আড্ডা” নামক এমন আবেগী – সংস্থার। আমাদের ভালোবাসার মানুষ প্রেমিক আরণ্যক বাবু সুস্থ হয়ে উঠুন । কেননা –“এ জন্ম তো কেটেই গেল অসম্ভবের অসংগতে /পরের জন্মে মানুষ হবো । ” , আমরা আপনার আশীর্বাদ আর ভালোবাসা নিয়ে ‘মানুষ’ হতে চাই যে …♦
কবিতা
সময়
আঞ্জু মনোয়ারা আনসারী
মুহূর্তরা হাঁটছে বুভুক্ষু নদীপথ ধরে
প্রেম সমাধিস্থ হবে জানো,
মহাপ্রেমের প্রশান্ত উপত্যকায়।
মুহূর্তরা পুড়ছে একাকিত্বের বিলাসিতায়
কল্পনার বেদিতে অহল্যা জীবন
অন্তঃসলীলায় জল রঙের চিত্রকলায়।
মুহূর্তরা ফিরছে দখিনা বিতানে
পলাশ ফুটছে ঝরাপাতার কোটায়
অথচ, মৃত্যুর ফেরিতে ‘তুমি’হীন ‘আমি’
প্রার্থিত কাফনে কুসুমিত শয্যায়।♦
এসেছে বসন্ত
ডঃ রমলা মুখার্জী
লেবু ফুলের গন্ধ মেখে বসন্ত আজ দ্বারে-
উচাটন মনটা ব্যাকুল, পথ পানে বারে বারে।
গাছেরা সব ঝিরঝিরিয়ে ঝরায় পাতাগুলি,
বসন্ত-বাতাস দেয় সবার হৃদয়-দুয়ার খুলি।
শিমূল পলাশ অশোক ফুলে কমলা-লালের আগুন-
কচি পাতার ডালে চেপে এল প্রেমের ফাগুন।
কোয়েলিয়া কুহু কুহু ডাকছে মিঠেল সুরে,
তিতলি-ভ্রমর-অলিরা গুনগুনিয়ে ওড়ে।
তামস শেষে সজনে হেসে ফোটায় মিঠে ফুল,
বাহার রাগ গাইছে সুখে পরাণের বুলবুল।
দখিন হাওয়ায় মাতাল হয়ে উতলা-আকুল চিত্ত-
চঞ্চলা হৃদয় করে বন-মাঝারে নৃত্য।
সোহাগ-প্রাণে আবীর রঙে খেলবো আমি দোল-
মাদলে বাজবে মধুর ধিকনা তিকনা বোল।
ফুলে ফুলে মাদল বোলে মনমাঝি উদাস-
যেও না তুমি বসন্ত, থাকো বারমাস।♦
বিবেক ধ্বনী
পার্থ দেবনাথ
আঁধার মুছিয়ে ভেবেছিল বিবেক
স্বাগত জানাবে আরো আলোক দিশারী
উজ্জীবিত বিবেক বন্ধুদের কে,
বাস্তবে কি দেখলো-
মরুভূমির মরীচিকা!
রুক্ষ প্রাণ, হৃদয়ে ম্লান, মৃত বিবেকের অস্থি বিসর্জন!
যে বিবেক ভেবেছিল বিবেকদের বাঁশির সুর
লহড়ীর মূর্ছনায় বিগলিত হবে কঠিন পাষান প্রাণ,
নির্ঝরের ছন্দের তালে পরশিত হবে
নতুন ধরনী, নতুন জগৎ।
বিবেক পেল না।
অতৃপ্তির হৃদয় খান খান হয়ে
হৃদয়বিদারক উচ্চকণ্ঠে আর্তনাদ
করে শুধু বলে ওঠে-
হে… বিবেকেরা আয় ফিরে আয়
আমি বড়ো একা
বড়ো একা।♦
দোল
দীপা কুমার
দোল মানে কি শুধুই রঙের খেলা,
দোল মানে নয় কি মিলন মেলা৷?
শৈশবে দোল খেলেছি —
ভাই বোনেরা সবাই মিলে একসাথে,
সারা উঠোন রঙে থাকতো মেতে!
ক্লান্ত চোখে ঘুম নামত —
রাত না হতে -হতে ;
ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে আসতো
আকাশ পরী যত ।
পলাশ – শিমূলের রঙে-রঙে
পৃথিবী টা স্বর্গ হয়ে যেতো।
মায়ের ডাক শুনতে পেতাম,
কোন সে স্বপ্নের দেশ থেকে ।
মা ডাকতো,উঠে পড়ো খুকু–
ভোর হলো যে।
ঘুম ভেঙে তাকিয়ে দেখি, কোথায় আলো,কোথায় পরী,
মায়ের পাশে আছি শুয়ে একি?
স্বপ্ন টা ছিলো তো বেশ ভালো,
ছোটো বেলার দিন গুলো বেশ তো ছিলো ।
কেন যে মানুষ বড় হয় তাড়াতাড়ি,
বড় হওয়া মানে পড়াশোনার হুড়োহুড়ি!
কোথায় যেন হারিয়ে যায় সেই ছোটোবেলা,
কোথায় যেন হারিয়ে যায়,
সেই আগের দোল খেলা ।।♦











