জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, দিল্লী, ৮ এপ্রিল ২০২১:
সাহাপুরের ভিডিভি-কে আদিবাসী একতাত্মিক সামাজিক সংস্থা একটি নিখুঁত উদাহরণ আদিবাসী উদ্যোগের এবং দেখাচ্ছে কিভাবে গুচ্ছ উন্নয়ন, মূল্যযুক্তি সদস্যদের আরও বেশি উপার্জন করাতে সাহায্য করে।
পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বেষ্টিত সাহাপুর মহারাষ্ট্রের ঠানে জেলায় সবচেয়ে বড় তালুক এবং একে দেখা হচ্ছে একটি উদীয়মান অঞ্চল হিসেবে। আদিবাসীদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যারা এই ভিডিভিকে-র সদস্য তারা কাঠকারি সম্প্রদায়ের। কাঠকারি একটি আদিম উপজাতি যাদের দেখা যায় মহারাষ্ট্রের পুনে, রায়গড় এবং ঠানে জেলায় এবং গুজরাটের কোনো কোনো অংশে। এই উপজাতিরা প্রধানত কৃষি মজুর এবং জ্বালানি কাঠ ও জংলি ফল বিক্রি করে।
এই সম্প্রদায়ের উদ্যোগী সদস্য সুনীল পাওয়ারান এবং তার বন্ধুরা শুরু করে স্থানীয় বাজারে কাঁচা গিলয় বেচতে। সেটাই এখন বন ধন যোজনা কর্মসূচির অধীনে ৩০০ সদস্যের ভিডিভিকে-তে পরিণত হয়েছে। ভিডিভিকে-র কাজকর্মও বিশাল এবং ৩৫টির বেশি উৎপন্ন এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রী নিয়ে কাজ করে। গিলয় চূর্ণ তৈরির করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে- আদিবাসীরা প্রথমে গাছ থেকে গিলয় কাটে এরপর সেটি ৮-১০ দিন শুকানো হয়। এই শুকনো গিলয় সাহাপুরের মূল কেন্দ্রে আনা হয় এবং সেখানে গুঁড়ো করে প্যাকেট করা হয় এবং ছাপ মারা হয় এবং পাঠানো হয় ট্রাইবস ইন্ডিয়া সহ ক্রেতাদের কাছে। গত দেড় বছরে এই গোষ্ঠী ১২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার গিলয় চূর্ণ এবং ৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকার শুকনো গিলয় বিক্রি করেছে। মোট বিক্রয়ের পরিমাণ ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
গত দেড় বছরে গুচ্ছ হিসেবে কাজকর্ম চালিয়ে ভিডিভিকে কাঁচা গিলয় বিক্রি করেছে ডাবুর, বৈদ্যনাথ, হিমালয়, ভিথোবা, সরন্ধর, কেরলের ভূমি ন্যাচরাল প্রোডাকটস, ত্রিবিক্রম এবং মৈত্রী ফুডস ইত্যাদির মতো বড় বড় সংস্থাকে। হিমালয়, ডাবুর এবং ভূমির মতো সংস্থাগুলি এ পর্যন্ত ১ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪৫০ টন গিলয়ের বরাত দিয়েছে। কোভিড-১৯ অতিমারী এবং তারজন্য দেশজুড়ে লকডাউনে ভিডিভিকে-র কাজকর্ম ব্যাহত হয় কিন্তু তাতে দলের মনোবল ভাঙেনি। লকডাউনের মধ্যেও ভিডিভিকে কঠোর পরিশ্রম করেছে ক্ষতির পরিমাণ কমাতে।
২০২০র মার্চ এবং জুনের মাঝ বরাবরের মধ্যে সাহাপুরের ভিডিভিকে স্থানীয় আদিবাসীদের কাছ থেকে ৩৪ হাজার কেজির বেশি কাঁচা গিলয় কিনেছে। এরপরে আনলকিং ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে ভিডিভিকে জোরদার কাজ করেছে প্রসারিত করতে এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে কেনার জন্য তাদের উৎপন্ন প্রাপ্য করতে। কাঁচাই হোক বা প্রক্রিয়াজাত ভিডিভিকের প্রধান উপাদান হল গিলয়। এখন তারা অন্যান্য উৎপন্ন যেমন সফেদ মুসলি, জামুন, বেহাদা, ভাভদিং, মরিঙ্গা, নিম এবং কমলা খোসা চূর্ণও তৈরি করছে। এই সাফল্য সম্প্রদায়ের এবং কাছাকাছি এলাকার হাজার হাজার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে একজোট হতে এবং একইরকম কাজ করতে।
ট্রাইফেড এ পর্যন্ত ১২ হাজার সুবিধাপ্রাপকের ৩৯টি ভিডিভিকেকে অতিরিক্ত মঞ্জুরি দিয়েছে। বন ধন বিকাশ যোজনা মূল্যযুক্তি অরণ্যবাসী উপজাতিদের দীর্ঘস্থায়ী জীবিকা সৃষ্টির সুবিধা দিতে বন ধন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে অপ্রধান বনজ উৎপন্নের মূল্যযুক্তি, ব্র্যান্ডিং এবং বিপণনের জন্য একটি কর্মসূচি। এই কর্মসূচির লক্ষ্য আদিবাসীদের ক্ষমতায়ণ যারজন্য মূলধনী, প্রশিক্ষণগত এবং পরামর্শগত সাহায্য দেওয়া হয় যাতে তাদের বাণিজ্যের প্রসার হয় এবং উপার্জন বাড়ে।
আদিবাসী উদ্যোগপতিদের একনিষ্ঠ প্রয়াস, মনোনিবেশ এবং দৃঢ় চিত্ততা এবং একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা, যা শুরু হয় এই এমএফপি-গুলির সংগ্রহ করা থেকে মূল্যযুক্তি, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং বিপণন করা পর্যন্ত, এই ভিডিভিকেগুলিকে অত্যন্ত সফল করে তুলেছে এই দ্রুত পরিবর্তনশীল অঞ্চলে। এই ভিডিভিকে-র সাফল্য একটি উদাহরণ কিভাবে এইসব উদ্যোগ রূপায়িত হচ্ছে ট্রাইফেডের দ্বারা আত্মনির্ভর ভারত অভিযানে ভারতকে আত্মনির্ভর করে তুলতে। যার আদর্শ গো ভোকাল ফর লোকাল, গো ট্রাইবাল, মেরা বন মেরা ধন মেরা উদ্যমর যা সারা দেশে আদিবাসী সমাজে সম্পূর্ণ রূপান্তর ঘটাচ্ছে।







