জিরো পয়েন্ট নিউজ ডেস্ক, ২৬ জুলাই ২০২১:
গত বিধানসভা নির্বাচনে চাপা ক্ষোভ থাকলেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দলের মধ্যেই যে যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আছে একথা প্রবল তৃণমূল সমর্থকও অস্বীকার করতে পারবেন না। মেমারি বিধানসভা নির্বাচনে যা দেখা গেছেও নীরবে কিন্তু লক্ষ্য ছিল যেহেতু দলকে আবার ক্ষমতায় নিয়ে আসা তাই সেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ক্ষোভ চাপা ছিল আর এখন এবার জায়গায় জায়গায় তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে।
রবিবার বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে তৃণমুলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ চাঞ্চল্য পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির বড় পলাশনে । এই সংঘর্ষের ফলে আহত হয় দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন। পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর ও এক পুলিশ কর্মীকে হেনস্থাও করা হয়।
ঘটনাস্থলে এসডিপিও দক্ষিণ আমিনুল ইসলাম খানের নেতৃত্ব বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মেমারি ২ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। মেমারি ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধক্ষ্য আব্দুল কাসেদ সেখের সহিত মেমারি ২ ব্লকের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি আবু আওয়ালের সংঘাত বেশ কয়েকমাস ধরে চলছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এদিন কাসেদের নেতৃত্বে বিজয় মিছিল করা হচ্ছিল। আবুআওয়াল ও তাঁর অনুগামীদের অভিযোগ বিজয় মিছিল থেকে অতর্কিতে আক্রমণ করা হয়। তাঁকে পার্টি অফিস থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে লাঠি, রড, টাঙ্গি দিয়ে মারধোর করে। তাকে বাঁচাতে গেলে আরও কয়েকজনকে মারধোর করা হয়।
মারধোরের অভিযোগ অস্বীকার করে মির্জাপুর এলাকার তৃণমুলের বুথ সভাপতি আকবর চৌধুরীর অভিযোগ তাদের বিজয় মিছিলের পিছন দিকে আবু আওয়ালের নেতৃত্ব হামলা চালানো হয়। তাদের টোটো ভাংচুর করা হয়। তাদেরও বেশ কয়েকজন জখম হন।
সংঘর্ষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করে নিয়ে তৃণমুলের মেমারি ২ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অমর সাহা জানান রির্পোট পাওয়ার পর দলীয় ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একদিকে করোনা পরিস্থিতির জন্য রাজ্যে বিধিনিষেধের নিয়ম চালু আছে, যেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচী কিংবা বিজয় মিছিলের বিধিনিষেধ আরোপ থাকলেও সে কথা যে শাসকদলের জন্য প্রযোজ্য নয় তা রাজ্যে বিভিন্ন স্থানের রাজনৈতিক সমাবেশই তার প্রমাণ।



