জিরো পয়েন্ট নিউজ, বর্ধমান, ১১ জুলাই ২০২৪ :
ভেস্তে গেল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের। বৃহস্পতিবার একযোগে বিক্ষোভে সামিল হয় অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপা, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত কর্মচারী ইউনিয়ন।

তাদের বিক্ষোভের জেরে স্থগিত হয়ে যায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক। বৃহস্পতিবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা হয়েছিল। অন্তর্বর্তিকালীন উপাচার্য এই বৈঠক ডাকতে পারেন না, এই দাবি তুলে বিক্ষোভে সামিল হয় ওয়েবকুপা, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত কর্মচারী ইউনিয়ন। ঘেরাও বিক্ষোভের জেরে সেই বৈঠক করা আর সম্ভব হয়নি। ঘর তালাবন্ধ দেখে ফিরে যান বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তিকালীন উপাচার্য গৌতম চন্দ্র।

কর্তৃপক্ষের টিএমসিপি, ওয়েবকুপা ও তৃণমূল প্রভাবিত কর্মচারী সংগঠনের বাধাতেই কার্যত ইসি মিটিং হল না বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা থেকে ইসি মিটিং ডাকা হয়েছিল। বেলা ১০টা থেকেই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাসের গাড়ি বারন্দায় বসে পরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বিক্ষোভকারীরা।
রেজিস্ট্রার সুজিত কুমার চৌধুরী নিজের অফিসে যেতে গেলে তাঁকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভের মুখে পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যান রেজিস্ট্রার। কিছুক্ষণ পরে উপাচার্য এলে তিনিও তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বাধা পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।ওয়েবকুপার ছত্রছায়ায় থাকা অধ্যাপকরা বলেন, ”রাজ্য সরকারের উচ্চ শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী এই অন্তর্বর্তিকালীন উপাচার্যের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক ডাকার কোনও অধিকার নেই। অথচ তিনি সেই বৈঠক ডেকেছেন। আগেও তিনি এই ধরনের বৈঠক ডেকে তা বাস্তবায়িত করতে ব্যর্থ হন। আমরা গতবারের মতো এবারও এই অবৈধ বৈঠকের বিরোধিতা করেছি। আমাদের সঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও তৃণমূল কর্মচারী সংগঠনও ছিল।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি স্বরাজ ঘোষ জানান, রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চান্সসেলর অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা হয়েছিল সেটা বিনা রাজ্য সরকারের অনুমোদন। সংস্কৃতি বিভাগ এবং ইতিহাস বিভাগে যে পিএইচডি এডমিশন সেটা নির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভাইস চ্যান্সেলর, কি ব্যাপার বা কি কারণ সবটাই ধোঁয়াশার মধ্যে। আমরা জানতে পেরেছিলাম ভাইস চ্যান্সেলর, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল এর সাথে মিটিং রেখেছেন, এই ব্যাপারেও রাজ্য সরকারের তরফে কোনো রকমের নির্দেশ নেওয়া হয় নি, রাজ্য সরকারের অনুমোদন ছাড়াই ‘ইসি’ ডিক্লিয়ার হয়। আমরা তীব্র বিরোধিতা করেছি।

