গল্প
দই ইলিশ
রণজিৎ মল্লিক (কবিরুল)
আজ শুক্রবার। দোকানটা খুলতে একটু দেরী হল সাদিকের। জুম্বার নামাজটা পড়েই আবার ছুটতে হবে। আজ আবার রক্তদানের দিন পড়েছে। হাতে সময় বড্ড কম। সকাল থেকেই ঝির ঝির করে শুরু হয়েছে বৃষ্টির বন্দিশ। অনেক দিনের অভিমান দূরে সরিয়ে ” বর্ষারাণী ” আবার মুখ তুলে চাইলেন। সকলেই তাই ভীষণ খুশী। এদিকে আবার ” রূপোলী পরী ” ইলিশের চাহিদাও বেশ জোরাল।
ঘন ঘোর বর্ষা বাদলের দিনে সাদিকের মায়াবী হাতের জাদুতে ” দই ইলিশ ” বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আর এই বর্ষাকালেই সাদিক কেমন বাদল মেঘের মতন গোমড়া মুখ করে থাকে। কিছু পাওয়া আর কিছু হারানোর ব্যথা ওকে অবশ করে দেয়। তবে মন ভাল করার একটাই টোটকা রবি ঠাকুরের গান। কবিতা পাঠ।কিছুটা ওর ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলোর মতন দ্যুতি ছড়ায়।
তবু বর্ষা আসলেই রিয়েলি মনটা গভীরভাবে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে সাদিকের। বর্ষার অনেক ঘটনা স্মৃতির ক্যানভাসে বাদল মেঘের মতন ভিড় করে। আর তারা দুঃখের বৃষ্টি হয়ে নামে। আর শুধু তাই নয় সেগুলি সাদিকের দুচোখে শ্রাবণ ধারা হয়ে ঝরে।
কি করে ভুলবে সেই বেদনা বিধুর দিনটার কথা? বালুরঘাটের কলেজ মোরে এক বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় বসেছিল সংগীতের আসর। গান করা হয়নি একটি অসুস্থ মেয়ের সেদিন। হাতে মাইক্রোফোন ধরে লুটিয়ে পড়েছিল সেদিন স্টে জের উপরে। তারপর সব শেষ। একটা জমাট অন্ধকার। সেই থেকে দুচোখ দিয়ে নেমে আসা বৃষ্টি বন্ধ হয়নি।
একটা দলা পাকানো কষ্ট হৃদয়টাকে পুরো মেরে ফেলে। আর আজও তারা কষ্ট দেয়। সেই হৃদয়ের জোড়া লাগা শুরু হয়েছিল একুশ বছর আগে। সাদিক তখন ডালখোলাতে একটা ছোট ভাতের হোটেল দিয়েছে। ভালই চলছে তার ব্যবসা।
একদিন এক বৃষ্টিভেজা সকালে একটি খ্রীষ্টান পরিবার তাদের অসুস্থ মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর জন্য শিলিগুড়ি যাচ্ছিল। পথে সাদিকের হোটেলে ইলিশ মাছের ঝোল দিয়ে তারা ভাত খায়। তারপর আবার তারা গাড়ি ধরে বেরিয়ে পড়ে।
একটু পরেই সাদিক দেখে কিছু দরকারী কাগজ আর একটা ব্যাগ উনারা ফেলে যায়। তখন মোবাইল পরিষেবা চালু হয়নি। কাগজটা কোন এক ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন। তাতে একটি মেয়ের জীবনের বাঁচা মরার ইতিহাস লেখা রয়েছে। মেয়েটি ” থ্যালাসেমিয়া বীটা মেজর ” রোগের শিকার। যে রোগে বাঁচার পসিবলিটি খুব কম।
থ্যালাসেমিয়া শব্দটা শুনে সাদিকের চোখ ছলছল করে উঠল। বাইরের প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। সাদিকের চোখেও নামল বৃষ্টি। আট বছর আগের পুরানো স্মৃতি ফিরে আসল। নিজের একমাত্র বোন থ্যালাসেমিয়া বীটা মেজরে আক্রান্ত হয়ে কবর প্রাপ্ত হয়। বোনের জন্য অনেক রক্ত লেগেছিল। আষাঢ়ের ধারার মতন বহু মানুষের শিরা দিয়ে নেমে এসেছিল বহু মানুষের আশীর্বাদ ধন্য “লাল বৃষ্টি”। বাঁচানো যায়নি। ঈদের জন্য কেনা বোনের সাদা চুরিদাড় রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল।
ব্যাগের মধ্যে বেশ বড় অংকের টাকা রয়েছে। সাদিক আর দেরী করল না। দোকান বন্ধ রেখেই ছুটে চলল শিলিগুড়ির দিকে। এখন ইলিশের মরসুমে একদিন দোকান বন্ধ রাখা মানেই অনেক লস। সামনে আবার ঈদ। যেভাবেই হোক মেয়েটাকে বাঁটাতে হবে। লসের কথা পরে ভাবা যাবে। মারিওর বাইকটা নিয়েই উইসেন বোল্টের মতন ছুটল।
–(২)–
অনেক কষ্টে মেয়েটির খোঁজ পাওয়া গেল। শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে হসপিটালে ভর্তি আছে। কাগজ আর ব্যাগসমেত টাকাটা পেয়েই উনাদের মুখে চওড়া হাসি জ্বলজ্বল করছে। একটা বিরাট সর্বনাশের হাত থেকে সাদিক ওদের বাঁচাল।
ডাক্তার ছোটাছুটি করছে। বি নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের জন্য। বি নেগেটিভের আকাল সেটা সবাই জানে। হঠাৎ সাদিকের বাঁ হাতের চওড়া পেশী ঝলসে উঠল। রক্ত দেবার জন্য এগিয়ে গেল ডাক্তারের চেম্বারের দিকে। বালুরঘাটের গোমস পরিবার ভাবতে পারেনি এত তাড়াতাড়ি রক্ত মিলবে।তাও আবার ক্রাইসিস ম্যানেজার সাদিক। সাদিকের ধন্যবাদের কলেবরটা অনেকটাই বেড়ে গেল।
আষাঢ়ের শেষ। বৃষ্টি ভালই টি -20 খেলছে। গোমস পরিবারের চোখেও নামল খুশীর শ্রাবণধারা। সাদিকের বলিষ্ঠ শিরা দিয়ে চুঁয়ে চুঁয়ে নামছে লাল , তাজা লাল ক্ষীণ , অতি ক্ষীণ বৃষ্টির ধারা। ঐ অতি ক্ষীণ লোহিত কণিকার স্রোত সাদিকের পাশের বেডে শুয়ে থাকা রোসাইনের শরীরে অবলীলায় ঢুকে পড়ছে। যে একটা টেডি বিয়ারকে বুকে আঁকড়ে ধরে ফ্যালফ্যাল চোখে মৃত্যুর পদধ্বনি শুনছে।
টেডিটাও কেমন শিশুর মতন ওর বুকে একটা নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে কেমন চুপ হয়ে গেছে।
সাদিককে ঐ টেডির জায়গা নিতে আর বেশীদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র সাত মাসের ঘনিষ্ঠতায় সাদিক রোজাইনের মনে একটা পাকাপাকি সম্পর্কের দেওয়াল তুলে ফেলেছে। এরপর গোমস পরিবারকে আর রক্তের জন্য হয়রান হতে হয়নি।
সাদিকের বিশ্বাস আর ভালবাসা রোসাইনকে দিল একটা ফ্রেশ অক্সিজেন। দুজনের ভালবাসা আত্রেয়ী নদীতে আনল দুরন্ত প্লাবন। জুম্বার নামাজ মিশল গুড ফ্রাইডের প্রেয়ারে।
ভাল মনের পরোপকারী ছেলে সাদিক রোজাইনের সব দায়িত্ব নিল। রোজা ভাল গান করত। ওকে আবার নতুন করে গানে উৎসাহিত করল।শিলিগুড়ির নামী দোকান থেকে আনাল বেশ দামী হারমোনিয়াম আর তানপুরা। ছোটবেলায় সাদিকও ভাল তবলা বাজাত। বালুরঘাটে আসলেই রোজার পাশে বসে বাজাত।
বালুরঘাটের ছোট্ট একতলা গোমস পরিবারের বাড়ি হয়ে উঠল সুরের জাদুঘর। তবে সাদিকের ভাতের হোটেল তারজন্য বন্ধ হয়নি। রোজাইনের প্রিয় দই ইলিশের স্বাদ সাদিকের হাতের ছোঁয়ায় আরো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত মশলা বলতে রোজার সুরের ভৈরবী রাগ, তবলার কাহারবা আর দুজনের চোখের নৈঋত কোণ বেয়ে নেমে আসা প্রেম নামক বৃষ্টির দাদরা।
থ্যালাসেমিয়া বীটা মেজর। অল্প অল্প করে হার্টবিট বাড়িয়ে তুলছে সাদিকের। ও জানে রোজাইন বেশীদিন আর গান করতে পারবে না। একদিন থেমে যাবে ওর সুরের ইমন কল্যাণ। তবু সাদিক জীবনের এই কটা দিন রোজাইনকে আঁকড়ে বাঁচতে চাই।
একুশ বছর আগের প্রেমের পাঠশালাতে পাঠ নেওয়া সাদিক চার বছর ধরে ভালবাসার চারা গাছটাকে অল্প অল্প করে জল আলো আর ” দই ইলিশ ” নামক সার দিয়ে সার দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছিল। সেই সাথে যোগ হয়েছিল বৃষ্টির স্নেহ সুধা।
জীবনের শেষ ইনিংসটা রোজাইন খুব মর্মান্তিকভাবে শেষ করল।
একুশ বছর আগের যে অভিষেক ইনিংসটা শুরু হয়েছিল বৃষ্টি আর বর্ষাকে স্বাক্ষী রেখে, আর তার চার বছর পরে জীবনের অন্তিম ম্যাচেও স্বাক্ষী থাকল বৃষ্টি। যে বৃষ্টির ক্ষীণ ধারা আজও চোখের নৈঋত কোণ বেয়ে প্রবাহমান।
–(৩)–
সতেরো বছর আগের জুলাইয়ের একটি বৃষ্টি স্নাত সন্ধ্যা। অনেক লড়াইয়ের পর রোজাইনের হাতে উঠল মাইক্রোফোন। চোখে মুখে খুশীর রোদ্দুর। আজ বহু বছর পরে দীর্ঘ রোগে ভোগার পর রোজাইন রবিঠাকুরের গান করবে।
বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর মানচিত্র থেকে অনেক দূরের মানচিত্রে বসবাস কোলাঘাটের রূপনারায়ণ নদীর জলে লাফানো ” রূপালী পরী ” ইলিশরাও বেশ খুশীতে ডগমগ। কালিয়াচকের সাদিক অনেক কষ্ট করে ওখান থেকে
আনিয়েছে ইলিশ। তার আদরের রোজার জন্য।
বেশ সুন্দর করে নিপুণ বুননে রেঁধেছে সেগুলি। দারুচিনি এলাচ আর গোলমরিচের গন্ধে দই ইলিশ পেয়েছে তার মাধুর্য। সাথে যোগ হয়েছে আশাবরী রাগের মাতাল করা মৌতাত।
খুব যত্নে সাদিকের হাতের জাদু চলে এসেছে টিফিন বক্স বন্দী হয়ে বালুরঘাট শহরে। বাইরে হালকা বৃষ্টির ভৈরবী রাগ।
সাদিকের কপালে অত সুখ ছিলনা।
সন্ধ্যের একটু পরেই বৃষ্টির মাতাল রাগের সঙ্গী হয়ে রোজাইন শুরু করল তার গান –
” সঘন গহন রাত্রি
ঝরিছে শ্রাবণ ধারা
……. …….. ……… …… “।
” শ্রাবণ ধারা ” আজও ঝরে। সমান তালে। একই ভাবে।
রোজাইন গান শেষ করেনি। অশক্ত অপুষ্ট শরীরে লুটিয়ে পড়ল মঞ্চের উপরে। সাদিকের চোখে ঘোর বিস্ময়। মৃতপ্রায় শরীরটা সোজা ছুটে গেল শিলিগুড়ি হসপিটালের দিকে। বৃষ্টির চাবুক আর কষাঘাত উপেক্ষা করে। দই ইলিশ টিফিন বক্স বন্দী হয়ে পড়ে থাকল।
শুক্রবার। চার্চে ফ্রাইডের প্রেয়ার আগেই শেষ হয়েছে। জুম্বার নামাজের পরই রোজাইন মেরিলিন গোমসের পবিত্র শরীরটা মাটি পেল। বালুরঘাটের এক চার্চের বেরিয়াল গ্রাউণ্ডে। দই ইলিশের টিফিন বক্সটাও রোজাইনের পাশে চির ঘুমে আচ্ছন্ন হল।
বৃষ্টির কীর্তন অনেক আগেই থেমে গেছে। সাদিকের চোখে তখনও আষাঢ়ে মেঘের দাপট।
–(৪)–
কথা গুলো চিন্তা করতে করতে অনেকটা সময় পাড় করল সাদিক। একুশটা বছর শুধুই বৃষ্টির আসুরিক বল প্রয়োগ। কখনো হালকা কখনো প্রবল। এক ফোঁটা রোদ্দুর ওঠেনি এই সুদীর্ঘ বছর গুলোতে।না পেয়েছে এক চিলতে সুখ। শুধুই দূঃখের কুয়োতে ডুব দিয়ে চলা। দই ইলিশের রেসিপিটাও আর তেমন সাড়া দেয়না মনে।
জুম্বার নামাজটা পড়েই সাদিক ছুটল রায়গঞ্জে এক মৃতপ্রায় রোগীকে ব্লাড দিতে। মনটা আজ রিয়েলি অশান্ত। সব কাজ শেষ করে ফিরতে একটু রাত হল। দুদিন বাদেই রোজাইনের আঠারোতম মৃত্যুবার্ষিকী।
–(৫)–
দুটো দিন খুব কষ্টে কেটেছে। আজ ২২ শে জুলাই। রোজাইনের মৃত্যুদিন। নিজের ভালবাসারও যবনীকা পতনের দিন। সকাল থেকেই জোর বৃষ্টি হচ্ছে। আষাঢ়ের আকাশ কালো মেঘের গোমড়া মুখের ঘনঘটা।
বৃষ্টি পড়তেই ইলিশের আনাগোনা বাজারে। হাতে সে রকম টাকাও নেই। তবু মনটা একটু চাঙ্গা করতে একটা ভাল জাতের ইলিশ সাদিক চড়া দাম দিয়ে কিনল। সাথে বেশ কিছূটা পরিমাণে টক দই।
চোখের জলটা ছেঁড়া পাঞ্জাবীতে মুছতে মুছতে পুরানো বহু পুরানো টিনের বাক্স থেকে ইলিশের রেসিপি আবার বের করল।
রোজাইনের ফটোতে একটা জুঁই ফুলের মালা পড়িয়েই ধূপ কাঠিটা জ্বেলে দিল। বাইরে খূব সুন্দর বৃষ্টির ভোজপুরী রাগ জমেছে।
নিপুণ হাতের জাদুতে সাদিক দই ইলিশ রান্নায় মন দিল। দীর্ঘ পরিশ্রম আর সাধনার পর গরম কড়াই থেকে বেরিয়ে আসছে দই ইলিশের নবাবী অহংকার। একটা মন মাতাল করা গন্ধ। জুঁই ফুলের সুমিষ্ট সুবাস আর ধূপের প্রমত্ততা তাকে আরো বলিষ্ঠ করে তুলছে।
ভিজে চোখে নিজের পরিশ্রমের ফসল টিফিন বক্স বন্দী করে সাদিক বালুরঘাটের বাস ধরল। বৃষ্টি ভালই ব্যাটিং করছে। চোখের আলো জলে ঝাপসা হয়ে আসছে।
সন্ধ্যের একটু পরেই সাদিক বালুরঘাটে নেমে সোজা চলে গেল বেরিয়াল গ্রাউণ্ডে। যেখানে ওর ভালবাসা শুয়ে আছে।
বছরে দুবার সাদিক এখানে আসে।রোজাইনের জন্মদিনে আর …..। যতই কাজ থাকুক। এই দুদিন ওর মিস হয়না।
রোজাইনের কবরের পাশে বসে টিফিন বক্সটা বার করল ব্যাগ থেকে। টিফিন বক্সটা রোজাইনের দেওয়া গিফ্ট।রোজাইন ঘুমিয়ে আছে।ওকে ওর পরিচিত রবি ঠাকুরের গানেই জাগিয়ে তুলল।
আলতো ভাবে বক্সটা রেখেই একটু দম নিল। ছিপ ছিপ করে বৃষ্টি পড়ার পর ” বৃষ্টি রাণী ” একটু বিশ্রাম নিল। আকাশে চাঁদ উঠেছে। চাঁদের আলো ভীষণ অভিমানে আছড়ে পড়ছে ইলিশ বন্দী টিফিন বক্সের উপর। বক্সটা বেশ চাঁদের আলোয় ঝলমল করছে। সাদিক বক্সের ঢাকনা একটু আলগা করে খুলে দিল। ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে দই ইলিশের মাতাল করা গন্ধ। পুরো পাগল করা ঝাঁঝালো মশলার বোহেমিয়ান আবেগ।
একুশ বছরের বৃষ্টি ভেজা প্রেম চাঁদের আলোয় ভিজে আরো জীবন্ত হয়ে উঠছে। টিফিন বক্স থেকে বেরিয়ে আসছে তার অহংকারী ফ্লেবার। সাদিকের চোখ তখনও জলে জলময়।
টিফিন বক্সের গায়ে লেগে থাকা বৃষ্টির জল , সরু রূপালী খুবই ক্ষীণ নদী হয়ে নামছে। দুজনের পবিত্র ভালবাসার স্বাক্ষী হয়ে।
নুর সাদিকুল ইন্তাজ মোমিন আজ বড্ড ক্লান্ত। অনেকটা পথ পাড়ি দেওয়ার ধকল তার শরীর কিভাবে নেবে ?
নিতে পারেনি। গভীর ঘুমে ঢলে পড়ল ক্লান্ত পাঠানী শরীরটা রোজাইন মেরিলিন গোমসের কবরের উপর। টিফিন বক্স উল্টে দই ইলিশে মাখল শরীরের কিছুটা অংশ।
ভোরের আলো ফুটতেই ফাদার ডিসুজা আর মৌলবী সাহেবের তত্বাবধানে সাদিকের শরীর শেষ মাটি পেল রোজাইনের কবরের পাশে।
না আর বৃষ্টি হয়নি। সাদিকের হার্টবিট থামার অনেক আগেই বৃষ্টির আশাবরী রাগ থেমে গেছে।
শুধু সমবেত জনতার চোখে বৃষ্টির বন্দিশ। ছলছল চোখে সকলে বিদায় জানিয়েছে ভালবাসার শেষ সৈনিককে।
ডক্টর ডেরিয়ার জেল পেনের ছোঁয়ায় পোস্ট মর্টেম রিপোর্টটা আসতে একটু দেরী হল।
রোজাইনের জিভে লেগে থাকা দই ইলিশের স্বাদ আর ওর দুচোখের নৈঋত কোণ বেয়ে নেমে আসা খুবই ক্ষীণ চোখের জলের কংসাবতী , দুইয়ের মিলিত ধারার মতন থ্যালাসেমিয়া বিটা মেজর টাও ওর শরীরে প্রবেশ করেছিল। সাদিকের শরীরকে আপণ করে নিয়েছিল। যেটা পোস্ট মর্টেম এ ধরা পড়ে।
সমস্ত ঘটনা শুনে পাষাণ হৃদয় ডক্টর ডেরিয়ার চোখেও বৃষ্টির আশাবরী রাগ।????️
◆এই সংখ্যাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য করুন নীচের কমেন্ট বক্সে।◆
