কবিতা
বৃষ্টি যখন মিথ
রঞ্জন চৌধুরী
বৃষ্টির পর রোদ উঠলে
মন ভালো হবার কারণ যথেষ্ট থাকে
বেরিয়ে পরা যায়
ঘর ছেড়ে, গন্ডী ছেড়ে
ছাতাহীন, বর্ষাতিহীন, লবরঝবর ছাড়া
বৃষ্টির পর রোদ উঠলে
আমি কখনসখন রামধনুর দেখা পাই ।
এক ক্যাথেড্রালের মাথায়
তার দেখা পাওয়া মন্দ কী!
বৃষ্টির পর রোদ উঠলে
আমি কৃষান ও কৃষানির চঞ্চলতা টের পাই বারান্দা-উঠোন হয়ে জল গড়িয়ে দেখি, লাঙল ছুঁয়ে
থিতু হয়ে বসে আছে শস্য খেতের ভেতরে
বৃষ্টির পর রোদ উঠলে
কবেকার এক সোঁতা
চকমক করে রোদের এমব্লেম পরে
মাটির সোঁদা গন্ধ মেখে
গাছের সাথে দিব্যি আলাপ জমায়। ????️
শ্যামল মেঘ
ডঃ রমলা মুখার্জী
অবিশ্রান্ত বরিষণে ভিজিয়ে দাও শ্যামল মেঘ,
ক্লান্ত যেন দিনে দিনে, কমছে তোমার হৃদয়াবেগ।
তাপের পারদ চড়ছে ক্রমেই, অসহনীয় দারুণ দহন….
আকাশ জুড়ে এসো আষাঢ়, জলদ করে সংবহন।
বজ্র-মানিক অঙ্গে পরে ঘনঘটার সঙ্গে
অবিরাম ধারাপাতে সবুজ আনো বঙ্গে।
তরুরাজি তাকিয়ে যে আজ তোমার পানে এক পলকে,
সবুজ পাতা হলুদ যে আজ, গড়বে খাবার কোন ফলকে?
বোম মেরেছি, বন কেটেছি, তাই কি এত রাগ?
ক্ষমা করে টাপুর রাণী একটু করো সোহাগ।
রোপন করে নতুন চারা করবো তোমায় বরণ….
অযথা বৃক্ষ ছেদন নয়, আমাদেরও সহমরণ।
ভরা শ্রাবণে বরিষণে নামবে যখন অঝোর ধারা……
জল সঞ্চয় চলবে ছাদে, খালি পাত্র হবে ভরা।
সেই জল খরার কালে লাগবে কতই চাষের কাজে,
জল-কষ্ট ঘনিয়ে এল নিজ-ভুলে ধরণী মাঝে।
বর্ষণে কর্ষণে সোনা ফলুক এই বঙ্গদেশে,
দাও বরিষণ পরশণ, ডাকছি তোমায় ভালোবেসে।
অনেক বাঁধে বাঁধবো তোমায় নিলাম কঠিন শপথ,
বন্যা খরা রোধ হবে, উড়বে শান্তি কপোত। ????️
◆এই সংখ্যাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য করুন নীচের কমেন্ট বক্সে।◆
