গল্প
ভূতুড়ে বাড়ি
মিরাজুল সেখ
বাঁশ বনের নীবিড় ঘন জঙ্গল,মধ্যে একফালি রাস্তা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে জীর্ণ আগাছায় ভরা এক বহু পুরোনো বাড়ি।বহু বছর পুরোনো ও জনহীনতায় নিজেদের বাড়ি বানিয়েছে বেশ কিছু ভূতের দল।দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দিবস রজনী, ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের চতুর্কোনে ভূতুড়ে বাড়ির ভয়াবহতার কথা।
এর ই মধ্য রাম গোপালের নয় বৎসরের ছোট্ট শিশুটি কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে ।পাশের নানা গ্রামে খুঁজতে বেরিয়েছে গ্রামের নানান মানুষ।অনেক খোঁজাখুঁজির পর ও মেলেনি নাবালকটিকে। পরিবারের সকলে বিষন্ন কান্নায় ভেঙে পড়েছে।এদিকে আবার সারাদিন পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এসেছে , মানুষের সমাগম ও কমেছে রাম গোপালের বাড়ির প্রাঙ্গণ থেকে।ছোট ছোট কচিকাঁচা দের ভূতের ভয়ে সন্ধ্যার আগেই নিজ নিজ বাড়িতে উপস্থিত করেছে তাদের বাবা মা।
আস্তে আস্তে রাত নেমে আসে নির্জনতা গ্রাস করে গ্রামটিকে। চাঁদের জ্যোৎস্নায় বাঁশ বন মৃদু বাতাসে দুলতে থাকে , শোনা যায় ভয়ানক চিৎকার, কান্নার শব্দ।রাম গোপাল বাবুর সেই ছোট্ট ছেলেটির নিখোঁজ হ ওয়ায় একটু ভেঙে পড়েন। উড়ে যায় ঘুম,মাটিতে তার পা যেন স্হির থাকেনা ।
সুন্দর ফুটফুটে শুশ্রী মুখের ছেলেটি বার বার ভেসে ওঠে বাবার চোখের সামনে, আকুল হয়ে কাঁদতে থাকে তখন।রাত বাড়তে থাকে ।এদিকে রাম গোপাল বাবু বাড়ির দাওয়াই একখানি বসন পেতে পূজোর আয়োজন করে।আর সেই রাতে তার মনে পড়ে যায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকের অভিশাপের কথা। ধনকুবের আশায় রামগোপাল বাবু যঞ্জ অবস্হানরত বৌদ্ধ ভিক্ষুককে একলাথি মেরে তার সকল সম্পদ হরণ করেছিল, হয়তো তার ই অভিশাপের ফল এটা।
রাত গড়িয়ে প্রভাত নেমে আসে গ্রামের নানান মানুষ আবার ভিড় করে রাম গোপাল বাবুর বাড়িতে।বোবার মতো হয়ে যায় তিনি তার কুকর্মে নিজের সন্তান নিখোঁজের দুশ্চিন্তায়।
সকলে নানা কথা জিজ্ঞাসা করে, কিন্তু রাম গোপাল বাবু কিছু ই বলে উঠতে পারে না।তখন তার সহধর্মিণী রমা জানায় গতরাতে উঠোনে ছিল ।এই কথা শুনে হতবাক হয়ে যায় সকলে বলে ওঠে ভূতুরে বাড়ির অশরীরি ভর করেছে।
সন্তান নিখোঁজের দুশ্চিন্তা স্বামীর এরুপ আচরণ ভীত করে রমাকে।দূরের ঝাড় গ্রামের নবীন সন্ন্যাসী কে আনার পরামর্শ দেয় অনেকে ।আনাও হয় তাকে কিন্তু তন্ত্র বিদ্যায় বিশেষ কিছু উপকার হয়না উপরন্তু গোপাল বাবু ক্ষেপে যান দুপুর হয়ে এলে হঠাৎ ই গোপাল বাবু বিধু বিধু বলে চেঁচিয়ে উঠে। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে ওই বাঁশ বনের ভূতুড়ে বাড়িতে বিধু, উনার এই কথায় সকলে চমকে ওঠে। বাঁশ বনের রাস্তায় যেতে কারো সাহস হয়না তার পর আবার ভূতুরে বাড়িতে বিধু।
বাঁশ বনের কড়কড় শব্দ, ডালপালা ভেঙে পড়া এগুলো তো প্রায়ই গ্রামবাসী দেখে ।কিন্তু সেই দিন সন্ধ্যার সময় এক জলন্ত আগুনের যাতায়াত করতে দেখে সেখানে যাওয়ার সাহস আর কুলোয় না।এদিকে তিনদিন হয়ে গেল বিধুকে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না।
হঠাৎ ই প্রাতঃকালে পাওয়া গেল একটি শুকনো গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় । গ্রামের মানুষ ভয়ে শিউরে উঠলো, কতজনে বললো ভূতুরে বাড়ির ভূত ই বিধুর ঘাড় মটকে ঝুলিয়েছে গাছে । মৃত বিধুকে দাহ করার জন্য শশ্মানে নিয়ে যাওয়া হলো।
কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার এক ই রকম ঘটনা ঘটলো গ্রামে।মানুষ ভূতুড়ে বাড়ির ভয়ে সেই পথে যাওয়া আসা বন্ধ করে দিল।এমনকি সন্ধ্যার আগেই গৃহে প্রবেশ করার নিয়ম জারি করল । এই ভাবেই চলতে থাকলো গ্রামবাসীর দিন যাপন।
অতঃপর একদিন শহর থেকে রাম গোপাল বাবুর বি.এ.পাশ করা ভাগ্নে এলো গ্রামে ।
মানুষের মুখে শুনলো সেই করুণ কাহিনী, কিছুটা বিস্মিত হলো। শিক্ষিত হ ওয়ার কারণে তার মনে নানা প্রশ্ন শুরু হল , সে জানতো ভূত আসলে নেই সব ই মানুষের ভয়।
কয়েকদিন যাওয়ার পর সে বুদ্ধি আটল ও গ্রামের কিছু যুবক কে নিয়ে একটা পরামর্শ করল যে সকলেই গভীর রাতে ওই ভূতুড়ে বাড়িতে গিয়ে জেনে আসবে আসল রহস্য।প্রথমে সকলে আঁতকে উঠল। কিন্তু শিক্ষিত ভদ্র ছেলেটির নানা যুক্তি তে সায় দিল।
তার পর রাত হলেই সকলে মিলে ভূতুড়ে বাড়ির দিকে রওনা দিল,ভয় ভয় করতে করতে ভূতুড়ে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে চমকে উঠলো ।তারা এক বৃদ্ধ সন্ন্যাসী কে কতক গুলো মাথার কঙ্কাল ,হলুদ পোড়া ,লঙ্কা ,ঢাক নিয়ে যজ্ঞে বসে অলৌকিক শক্তির আরাধনা করছে ।তখন সকলে গিয়ে তাকে ঘিরে ফেলল ও প্রাতঃকালে পাঁচ গ্রামের মানুষের সামনে উপযুক্ত শাশ্তি দিল।।।।।♦
◆এই সংখ্যাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য করুন নীচের কমেন্ট বক্সে।◆

1 টি মন্তব্য
অসাধারণ লাগলো। ভালো থাকবেন সকলে।