02/03/2026 : 9:09 AM
ই-ম্যাগাজিনসাহিত্য

e-জিরো পয়েন্ট – আষাঢ় ১৪২৭ (আষাঢ়ে ভূতের  আড্ডা)

ছড়া


ভূতুড়ে

✒ হাস্নে আরা বেগম
আজ যেনো কেমন সব ভূতুড়ে
একটাই শব্দ চারিদিকে একই সুরে!
শুধু একটাই শব্দের হাজার লড়াই
ঘুচে গেছে মানুষের মিথ্যা বড়াই!
হবে না আর কেউ কাছাকাছি
মরণ তো শেষ কথা,যদি জীবনেও বাঁচি!
চারিদিকে অদৃশ্য ভূতকেই খুঁজি
যদি কোনো মতে পাই তাকে বুঝি!
সবাই যে তাকে ধরতে নারে
সে শুধু লাফ দিয়ে দিয়ে বাড়ে!
চারিদিকে চলছে সব দ্বিধা আর দ্বন্দ্ব
পৃথিবী হারাচ্ছে তার তাল আর ছন্দ!
কখন ছিঁড়ে যাবে ভূতের জাল
চৌদিকে পড়ে যাবে ব্যাপক গোলমাল।♦


অনু গল্প


ভূত অদ্ভুত কিম্ভুত

✒ অগ্নিমিত্র ( ডঃ সায়ন ভট্টাচার্য)
চন্ডীতলায় আবার গেলাম গত আষাঢ় । বদনমামা অনেক করে ডাকছিল ; তাই আমি, রিষ্টুন, বাপ্পা ও গীতেশ সবাই গেলাম। মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে, এখন লম্বা ছুটি। সঙ্গে রূপোদা ।…
  খেতের মাঝে বদনমামার বাড়িতে সন্ধ্যায় হুহু করে হাওয়া বইছে । বসে আছি আমরা, আলো- পাখা বন্ধ করে দিয়েছি ।
 বদনমামা বলছে:-‘ জানিস তো পলু, এই রকম সন্ধ্যাতেই ভূত পেত্নীর বে’ হয় ।’
 রূপোদা ফোড়ন কাটে :-‘ তোমার যেমন কথা বদনমামা! বিয়ে হয় না ছাই ।..’
 হুউ করে দমকা হাওয়া এসে যেন রূপোদার কথার প্রতিবাদ করতে লাগলো ।
 ‘ ঐ তো, কিছুতেই তোরা বিশ্বেস করবি নে ! ..জানিস, কাছেই একটা হানাবাড়ি আছে, সেখানে
অনেকেই ভূতের বে’ দেখেছে । সানাইয়ের আওয়াজ শোনা যায় । ‘
 বাপ্পা বলে -‘ কোথায় সেই হানাবাড়ি মামা? আজই যাবো আমরা ।’
 ‘ অ্যাঁ, যাবি?! ওখানে কিন্তু কেউ যায় না ভয়ে!’
  গীতেশ, রিষ্টুনের প্রাণেও দেখি ভয়ডর নেই । রাজী হল ওরাও ।
 রাতে কয়েকটি টর্চ, লাঠি ও দড়ি নিয়ে রওনা দিলাম আমরা সবাই, হানাবাড়ির দিকে ।
 চারদিকে ঝিঁঝি পোকার ডাক, শুনশান । ..আমরা হানাবাড়ির দরজায় ।
 দেখি, চাদর মুড়ি দিয়ে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে বাড়িটার দরজায় । আঁধার রাতে লোকটাকে অদ্ভুত লাগছিল ।…
 ‘ কে? কে তুমি?’ রূপোদা বলল।
 লোকটা বলল :-‘ এজ্ঞে কত্তা, আপনেরাই কলকেতা থেকে এসেচেন তো?’
 তার কথায় চমকে উঠলাম । ও কী করে জানলো? আমরা তো বদনমামা ছাড়া কাউকে বলিনি!
  ‘ এজ্ঞে আমি জানলুম কী করে, তাই ভাবচেন তো? ছাড়েন …। এখন চলেন, ওখান থেকে আওয়াজ আসতেছে । এখেনে আমি আগে এয়েচি!’
  ও, তাই! এবারে বুঝলাম ।
 রিষ্টুন বলে -‘ আ- আপনার নাম কী?!’
 ‘ এজ্ঞে আমি হারাধন, কত্তা । আর দেরি নয়, চলেন আজ্ঞে!’
  সত্যিই দোতলা হানাবাড়ির ভিতর থেকে সানাইয়ের সুর ভেসে আসছে ।…এদিকে জঙ্গলে ভরা জায়গা, তিনতলা বাড়িটা আঁধারে দাঁড়িয়ে আছে!
  লোকটা সড়াৎ করে একটা ভাঙা  দেওয়াল দিয়ে ঢুকে পড়ল । বলে :-‘ ইদিক দিয়ে কত্তা! ..আসেন ।’
 তার পিছন পিছন আমরা সবাই ঢুকে পড়লাম হানাবাড়িটাতে । ঘুরঘুট্টি অন্ধকার; গায়ে কাঁটা দিচ্ছে । লোকটা কিন্তু দিব্যি ভাঙা সিঁড়ি দিয়ে তরতরিয়ে উঠে চলেছে, পিছনে আমরা ।
 উপরে পৌঁছলাম আমরা পাঁচজন । একটা ঘরে দেখি আলো জ্বলছে! মনে হল, দুটো লোক যেন কাগজের পুরিয়া তৈরী করে কী সব ভরছে ।..
  হারাধনকে যেন আর দেখা যাচ্ছে না । তাও সে-ই যেন বলল:-‘ কত্তা, এরা নেশার কারবারি! কোকেন, হাশিশ!’
 রূপোদা ফিসফিসিয়ে বলল:’ ঠিক! আমি বুঝতে পারছি । ড্রাগসের চোরা চালান করছে!’
 আমাদের শব্দ শুনে লোকগুলো ছুটে এলো । হাতে ছুরি!
 ‘ কে? কে তোরা?!’
 ‘ তোদের যম !’ বলে গীতেশ ও রূপোদার লাঠি দমাদম পড়লো ওদের মাথায় । লোকদুটো মাথা চেপে বসে পড়লো ।..ঘরের কোণে তখনো টেপরেকর্ডারে সানাই বেজে চলেছে ।
  চারদিক থেকে যেন হারাধনের গলা ভেসে আসছে: -‘ মারেন কত্তা, মারেন। আমার ছেলেটাকে ওরা …..। ঐ নেশার চক্করে পড়ে ও ….।’
 তারপর লোকগুলোকে বেঁধে নীচে নিয়ে গেলাম; থানায় ওদের জমা দিয়ে বদনমামার বাড়ি ফিরলাম! হারাধনকে আর দেখতে পেলাম না ।
 তারপর পরদিন সকালে পাশের বাড়ির রমেশবাবুকে হারাধনের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম । ..যা শুনলাম তা অবিশ্বাস্য!
  হারাধন মারা গিয়েছে জলে ডুব দিয়ে, আজ বছরখানেক হলো । তার একমাত্র ছেলে মারা যায় দু বছর আগে; কোকেন পাওয়া যায় তার রক্তে ।..
  বদনমামা বলল:-‘ হারাধনের আত্মা এসে আমাদের সাহায্য করলো রে !’
  এর পর আর ভূতে অবিশ্বাস করার মতো কিছুই রইল না ।।♦
◆এই সংখ্যাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য করুন নীচের কমেন্ট বক্সে।◆

Related posts

কাজী নজরুল ইসলামঃবাংলার যৌবনের দিশারী

E Zero Point

সোমেন চন্দ স্মরণ সভা কলকাতায়

E Zero Point

দৈনিক কবিতাঃ প্রথম কদম

E Zero Point

1 টি মন্তব্য

আব্দুল হিল শেখ June 21, 2020 at 8:05 am

অসাধারণ লাগলো। ভালো থাকবেন সকলে।

উত্তর

মতামত দিন