কবিতা
বোসেদের ছাদে নিশিরাতে কাঁদে
রতন নস্কর
আলোছায়া মেঘে ঢাকা মিটি মিটি চাঁদ
দূর থেকে দেখা যায় বোসেদের ছাদ।
শনশন হাওয়া বয় ঝিঁঝি পোকা ডাকে
কেউ বুঝি হাঁটে আর খুঁজে যায় কাকে ।
তারপরে দুদ্দাড় সারা ছাদে ছোটে
একলাফে নিমেষেই গাছে গিয়ে ওঠে ।
জোরে জোরে ডাল ধরে দেয় শুধু নাড়া
ভয়ে গা ছম ছম লোম হয় খাড়া ।
কিছুক্ষণ পরে দেখি আলো হেঁটে চলে
কেউ যেন ঢিল ছোঁড়ে পুকুরের জলে ।
বাবা জান,ভূত আছে বোসেদের ছাদে
নিশিরাতে ঘোরে আর মাঝে মাঝে কাঁদে ।
শির শির করে গা ভয়ে কাঁপে বুক
গলা শুকিয়ে ওঠে ঘামে ভরে মুখ ।
বাবা শুনে হাসে আর পায় ভারি মজা
এক দিন ঘটা করে শুরু ভূত খোঁজা ।
ভূত টূত কিছু নয় ভাম ছাদে নাচে
খাবারের খোঁজে সে ছোটে গাছে গাছে ।♦
অবচেতন
ইঞ্জামামুল হক
একলা পথের যাত্রী আমি
বুকের ভিতর ধড়াস করে
নিঝুম রাতি, নিভছে বাতি
শিউরে শরীর আকাশ নীড়ে ।
অমানিশা আকাশ ঘিরে
নির্জনতা করছে ভিড়
সোঁ সোঁ সোঁ বইছে বাতাস
আউড়ে উঠি,ভাঙল শির ।
মুক্ত আকাশ,গভীর রজনী
মায়াছবি আসছে তেড়ে
ছম ছম ছম রাস্তা ধারে
অশরীরী সব হাত নাড়ে ।
ধরের উপর মাথার বোঝা
খুলে রেখে চলছে পথে
উসকো খুসকো এলোকেশে
ধেয়ে আসে বাঁকা পথে ।
বাঁশের ঝোপে,ঝিঁঝিঁ ডাকে
আলেয়া ছুটে আইল ঘেঁষে
হুঁক্কা হুয়া হাঁকছে শিয়াল
বক্ষ পাঁজর ভাঙল শেষে ।
সাদা থানে সম্মুখে মোর
এক অশরীরী অবয়ব
অবচেতনের চেতন ফিরে দেখি
ভোরের আলোর বাস্তব ।♦
◆এই সংখ্যাটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য করুন নীচের কমেন্ট বক্সে।◆

1 টি মন্তব্য
অসাধারণ লাগলো। ভালো থাকবেন সকলে।