কবিতা
আমার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক
সামিমা ইয়াসমিন
জীবনের প্রথম শিক্ষক তুমি
তুমিই আমার গুরু,
তোমার আঙুল ধরেই আমার
পথচলা হয় শুরু।
আলাদিনের প্রদীপ তুমি
তুমি নির্মল আলো,
তোমার জন্যেই আজ জীবনে
যা কিছু আছে ভালো।
কখনও পথপ্রদর্শক তুমি
জীবনে এগিয়ে চলার পথে,
তুমিই তো শিখিয়েছ আমায়
বাঁচতে সত্যের সাথে।
আমায় দিয়েছ সুখ-আহ্লাদ
নিজের খুশি ভুলি,
সকল দুঃখ-কষ্ট, চিন্তা-বোঝা নিয়েছ
নিজের কাঁধে তুলি।
তুমি বন্ধু, তুমি পথের আলো
তোমার জ্ঞান-শিক্ষা অমূল্য,
তাই তো কেউ পারে না হতে
কখনও তোমার সমতূল্য।
তোমার কাছে রইবো আমি
সারাজীবন ঋণী,
তুমিই আমার শুভচিন্তক
স্বপ্নপূরণের খনি।
আমার কারণে তোমার চিন্তার
নেই কোনো বিরাম,
তুমিই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ‘বাবা’
তোমায় জানাই সালাম। ♦
পেরিয়ে গেছে সেদিন গুলি
বদ্রীনাথ পাল
প্রথম যেদিন আলতো পায়ে বাবার দু’হাত ধরে-
হাজির হলাম পাঠশালাটির কাঁচা মাটির ঘরে-
এগিয়ে এলেন সে মানুষটি, হাসি মাখা মুখে-
দু’হাত দিয়ে জড়িয়ে নিলেন আমায় তাঁহার বুকে।
সেই তো শুরু ! তার পরেতে কাল গিয়েছে কেটে,
সুখ দুঃখের কতো ছবি আজ-ও বুকে সেঁটে।
চোখ খুললো একে একে, তাঁর জ্বলানো আলো-
চিনিয়ে দিলো কোথায় আঁধার, কোথায় গহন কালো।
কথার ছলে বলেন তিনি কেবল মানুষ হতে-
“পা দুটো তোর যায় না যেন কভুও বাঁকা পথে।
আর্ত জনের কষ্ট নিবি বুকটি নিজের পেতে,
আহার দিবি তাকে, যে পায় না কিছু খেতে।”
পেরিয়ে গেছে সেদিন গুলি, আজ-ও মনে পড়ে-
তাঁর সে স্নেহের হাত দু’খানি, রোদ বৃষ্টি ঝড়ে।
“ধরনীধর হাজরা” নামে সবাই তাকে চিনে-
খুলতো কি আর এ চোখ আমার, তাঁর শিক্ষা বিনে!!♦

