16/04/2026 : 4:50 AM
ই-ম্যাগাজিনসাহিত্য

|| বাজলো তোমার আলোর বেণু || e-জিরো পয়েন্ট – আশ্বিন ১৪২৭

গল্প


 ভুতুড়ে বাংলো

✒সৌভিন ঘোষ

অবিনাষ একজন ডিটেকটিভ। সে এখন পুরুলিয়া এসেছে।রাত তখন প্রায় নটা, রাস্তার দুপাশে ঘন জঙ্গল, গাড়ি করে সে যাচ্ছে। মিনিট পঁচিশ লাগবে এখোনো বাংলোয় পৌছাতে। একটা রহস্যর সমাধান করতে সে এসেছিল । রহস্যর সমাধান শেষ। কাল সে চলে যাবে। অবিনাষ এখানে এসেছে দু _ সপ্তাহ হবে। বাংলোতে অবিনাষের একজন চাকর থাকে তার নাম ভোলারাম। তারা দুজনেই থাকে বাংলোতে। বাংলোর দেখাশোনা ভোলারাম করে। বয়স্ক মানুষ চোখে ঠিকভাবে দেখতে পায়না। বয়স বছর ছিয়াওর হবে। অবিনাষ ভোলারামের কাছে শুনেছে যে, অবিনাষের আশার আগে এক সাহেব থাকত এই বাংলোয়। কোনো এক কারণে নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছিল। তাই ওই বাংলোয় কেও থাকে না।বাংলো ফাঁকাই ছিল এতবছর। শোনা যায় সাহেবের আত্মা এখনো ঘরে বাংলোয়। প্রতি অমাব‍স‍্যার রাতে। তাই অমাবস‍্যার রাতে ভোলারাম বাংলোয় থাকেন না। কোথায় থাকে তা জানা যায়নি। অভিনাষের সঙ্গে ভোলারামের আলাপ ও বেশি দিনের নয়। তাই ভোলারামের সম্পর্কে বেশি কিছু সে জানে না। সেদিনও ছিলো অমাবস‍্যা। চাঁদ ওঠেনি ফলে চারিদিকে শুধু অন্ধকার। শুধু কতগুলি জনাকির আলো, আর কয়েকটা ঝি_ঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। অবিলাষ যখন বাংলোয় পৌঁছালো ঘড়িতে তখন প্রায় নটা পয়তাল্লিশের কাছাকাছি। ভোলারাম নেই, সুতরাং বাংলো খালি। অবিনাষ বাংলোয় পৌঁছে গেটের চাবি খুলে ভিতরে প্রবেশ করল। একতলায় একটি ঘরে অবিনাষ থাকে। একতলায় মোট তিনটে ঘর। দুতলায় দুটো ঘর আছে।যেই না অবিনাষ ঘরের চাবি খুলতে যাবে, ঠিক তখনই দুতলার ঘর থেকে একটা হাসির আওয়াজ ভেসে এলো। অবিনাষের হাতে টর্চ ছিলো, সে ঘরের চাবি আত খোলা অবস্থাতে রেখে দুতলার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠতে যাবে এমন সময় পিছন থেকে কে জানো বলে উঠলো বাবু। অবিনাষ গলার আওয়াজ শুনে বুঝলো যে এটা ভোলারামের গলা। অবিনাষ পিছনে ফিরে কিন্তু কাউকেই দেখতে পেল না। অবিনাষ নীচে নেমে এলো। কান্নার আওয়াজ তখন বন্ধ হয়েছে। অবিনাষ ঘর খুলে মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘরে পাচালি করছে আর ভাবছে ঠিক এমন সময়ই ফের অট্টহাসি শোনা গেল। অবিনাষ ডিটেকটিভ তাই সে ভয় না পেয়েই টর্চের আলো জ্বালিয়ে সিড়িদিয়ে ওপরে উঠে গেল। দুতলায় কেও ওঠে না। পাঁচ থেকে সাত বছর না সরলে যেরকম অবস্থা হয় ঠিক সেইরকম। চারিদিক ঝুলে ভরতি। দরজাটা আধভেজা অবস্থায় আছে। অবিনাষ যেই ঘরের দরজা খুলতে যাবে ঠিক তখনই কান্নার আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেল। ভিতরে ঢুকে অবিনাষ চারিদিক দেখতে থাকল। দেওয়ালের দিকে আলো ফেলতে অবিনাষ অবাক… হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। অবিনাষ ঘরে কারোর উপস্থিতি অনুভব করলো। কিন্তু কাউকেই দেখতে পেল না। অবিনাষ নীচে নেমে এলো। রাতে তার ঘুম হল না। পরের দিন ভরেই সে গাড়ি নিয়ে রওনা দিল। পড়ে অবিনাষ বুজতে পেরেছিল যে ভোলারাম ই সেই সাহেব যে ভূত হয়ে সারা বাংলোয় প্রতি অমাবস্যার রাতে ঘুরে বেড়ায় আর হাসে…..।

Related posts

ভালোবাসার কবিতাঃ সংঘমিত্রার মেয়ের বিয়েতে

E Zero Point

জিরো পয়েন্টের ‘ সম্প্রীতি ও দেশপ্রেম’ একটি নান্দনিক সংকলন

E Zero Point

দৈনিক কবিতাঃ নিস্তব্ধ কলকাতার বুক – আমিরুল ইসলাম

E Zero Point

মতামত দিন